নিউজ ডেস্ক: ভোটের নির্ঘণ্ট যত এগিয়ে আসছে, ততোই রদবদল বাড়ছে কলকাতা পুলিশের অন্দরে। দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের মাত্র চারদিন আগে ফের কালীঘাট থানার ওসি বদল করল নির্বাচন কমিশন। এবার নিজের বসানো ওসি উৎপল ঘোষকেই সরিয়ে গৌতম দাসকে কালীঘাটের নতুন ওসির দায়িত্ব দেওয়া হলো। কালীঘাটের পাশাপাশি আলিপুর থানাতেও বড়সড় পরিবর্তন এনেছে কমিশন।
থানায় অভিজ্ঞতার অভাব ও রদবদল: কলকাতা পুলিশের একটি সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, কর্মজীবনে থানায় কাজের বিশেষ অভিজ্ঞতা ছিল না উৎপল ঘোষের। সেই কারণেই শনিবার কমিশন তাঁকে স্পেশাল ব্রাঞ্চে বদলি করে তাঁর জায়গায় গৌতম দাসকে নিয়ে এসেছে। শুধু ওসি নয়, কালীঘাট থানার অ্যাডিশনাল ওসি নিরুপম দত্তকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, আলিপুর থানার ওসি তপন নাথকে সরিয়ে নতুন ওসি করা হয়েছে সুব্রত পাণ্ডেকে। আলিপুরের অ্যাডিশনাল ওসি চামেলি মুখোপাধ্যায়কে উল্টোডাঙা মহিলা থানার ওসির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
শহরে যান চলাচলে রাশ: ভোটের আগের দিন, ভোটের দিন এবং গণনার দিন সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে বড় সিদ্ধান্ত নিলেন পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দা। লালবাজারের নির্দেশিকা অনুযায়ী, বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় পণ্যবাহী যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। কসবার গীতাঞ্জলি স্টেডিয়াম সংলগ্ন এলাকা, জাজেস কোর্ট রোড, হরিশ মুখার্জি রোড, ডায়মন্ড হারবার রোড এবং ময়ূরভঞ্জ রোডে যান চলাচল বিশেষ ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। মূলত স্ট্রং রুম ও ডিউটি ফোর্সের যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখতেই এই পদক্ষেপ।
অস্ত্র মামলায় গ্রেফতার: ভোটের আগে অশান্তি রুখতে শহরে চিরুনি তল্লাশি চালাচ্ছে লালবাজারের গুন্ডাদমন শাখা। শুক্রবার রাতে পটারি রোড এলাকা থেকে সুজয় মজুমদার ওরফে বাবু নামে এক দুষ্কৃতীকে গ্রেফতার করেছেন গোয়েন্দারা। হেস্টিংস থানায় দায়ের হওয়া একটি অস্ত্র আইনের মামলায় সে অভিযুক্ত ছিল। ভোটের আগে এভাবে একের পর এক দুষ্কৃতী দমন ও প্রশাসনিক রদবদল কলকাতা পুলিশের প্রস্তুতিকেই স্পষ্ট করে দিচ্ছে।