নিউজ ডেস্ক: ভোটের মুখে কলকাতা পুলিশের অস্বস্তি বাড়াল নির্বাচন কমিশন। শহরের শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে অতি-স্পর্শকাতর এলাকা এবং দাগি অপরাধীদের (History Sheeters) তালিকা কেন্দ্রীয় বাহিনীর হাতে তুলে দিতে গড়িমসি করছে একাধিক থানা— পুলিশ পর্যবেক্ষকদের এই বিস্ফোরক অভিযোগের পর নড়েচড়ে বসল কমিশন। লালবাজারকে কড়া নির্দেশ দিয়ে জানানো হয়েছে, অবিলম্বে সমস্ত তথ্য বাহিনীকে সরবরাহ করতে হবে। এরপরই কলকাতার পুলিশ কমিশনার (CP) সমস্ত থানাকে দ্রুত কাজ শেষের কড়া নির্দেশ পাঠিয়েছেন।
তালিকায় কেন অনীহা? উঠছে প্রশ্ন: নির্বাচনের দিন বুথে বুথে অশান্তি রুখতে এবং ভোটারদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে শহরের ‘হিংসা কবলিত’ এলাকাগুলি চিহ্নিত করতে চাইছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। বিগত নির্বাচনগুলিতে কোথায় গোলমাল হয়েছে, কারা এলাকায় দাদাগিরি বা ভোটারদের ভয় দেখানোর রেকর্ড রেখেছে, তাদের নামের তালিকা হাতে থাকলে বাহিনীর পক্ষে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হয়। কিন্তু বাহিনীর অভিযোগ, দফায় দফায় বৈঠকের পরেও থানার ওসি-রা এই তালিকা দিতে টালবাহানা করছেন। বিষয়টি পুলিশ পর্যবেক্ষকদের মাধ্যমে কমিশনের কানে পৌঁছাতেই ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।
সিপি-র কড়া দাওয়াই: কমিশনের নির্দেশের পরেই লালবাজারের অন্দরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দা সমস্ত থানাকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, হিংসা কবলিত এলাকার তালিকা, অপরাধীদের প্রোফাইল এবং এলাকার ম্যাপ তৈরিতে আর কোনও গড়িমসি সহ্য করা হবে না। একই সঙ্গে বুথের তালিকা এবং বাহিনীর মোতায়েন সংক্রান্ত ‘ডেপ্লয়মেন্ট প্ল্যান’-এর তথ্যও স্টেট পুলিশ নোডাল অফিসারকে দিতে বলা হয়েছে। সিপির এই কড়া বার্তার পর শনিবার রাত থেকেই প্রতিটি থানায় তড়িঘড়ি তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে বলে খবর।
সভার অনুমতি নিয়ে নয়া বিতর্ক: নিরাপত্তার পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলির সভার অনুমতি দেওয়া নিয়েও কমিশন সরব হয়েছে। একাধিক দল অভিযোগ করেছে যে, কলকাতায় প্রচারের সভার অনুমতি পাওয়ার ক্ষেত্রে পুলিশি পক্ষপাতিত্বের শিকার হতে হচ্ছে তাদের। পুলিশের দাবি ছিল, সভার নির্ধারিত সময়ের চেয়ে অনেক পরে কর্মসূচি শুরু হওয়ায় সমস্যা হচ্ছে। তবে কমিশন সাফ জানিয়ে দিয়েছে, প্রতিটি দল যাতে সমান সুযোগ (Level Playing Field) পায়, তা সুনিশ্চিত করতে হবে লালবাজারকেই।