নিউজ ডেস্ক: প্রথম দফার ভোটগ্রহণের আগে রাজ্যে অবাধ ও স্বচ্ছ নির্বাচন সুনিশ্চিত করতে প্রযুক্তির বর্ম তৈরি করল নির্বাচন কমিশন। পাহাড় থেকে সমতল— প্রতিটি বুথে একশো শতাংশ ওয়েব কাস্টিং নিশ্চিত করতে এ বার বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে ‘শ্যাডো জোন’ বা ইন্টারনেট সংযোগহীন এলাকাগুলির ওপর। কেবল বুথের ভেতর নয়, বুথের বাইরে ১০০ মিটার এলাকা এবং এমনকি ভোটারের আঙুলে কালি লাগানোর মুহূর্তটিও এ বার ধরা পড়বে ক্যামেরায়।
কমিশন সূত্রে খবর, রাজ্যে চিহ্নিত ৬৪২টি শ্যাডো জোনের মধ্যে ২৬২টি এলাকাকে ইতিমধ্য়েই সক্রিয় নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হয়েছে। দার্জিলিং, কালিম্পং, ফরাক্কা এবং আলিপুরদুয়ারের মতো দুর্গম এলাকাগুলিতে ওয়েব কাস্টিং যাতে ব্যাহত না হয়, তার জন্য বিশেষ সিম কার্ড ও চিপ সম্বলিত ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে। এই ক্যামেরাগুলি বিশেষ সফটওয়্যারের মাধ্যমে সরাসরি কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ বাড়াতে এ বার ব্যবহার করা হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) চালিত ক্যামেরা। ভোটকক্ষে যদি চারজনের বেশি ভোটার বা ইভিএমের ধারে একজনের বেশি মানুষ উপস্থিত থাকেন, তবে এআই প্রযুক্তি তৎক্ষণাৎ তা আধিকারিকদের গোচরে আনবে।
নিরাপত্তার এই ঘেরাটোপ শুরু হবে ভোটের দু’দিন আগে থেকেই। প্রথম দফার ক্ষেত্রে ২১ এপ্রিল এবং দ্বিতীয় দফার ক্ষেত্রে ২৭ এপ্রিল থেকে ওয়েব কাস্টিং শুরু করার জন্য রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং জেলাশাসকদের নির্দেশ পাঠানো হয়েছে। নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, বুথের বাইরে এমনভাবে ক্যামেরা বসাতে হবে যাতে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ভোটার থেকে শুরু করে চারপাশের ১০০ মিটার ব্যাসার্ধের প্রতিটি গতিবিধি নজরদারির আওতায় থাকে। কোনও ক্যামেরা বিকল হলে তা তৎক্ষণাৎ পরিবর্তনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং জেলা নির্বাচন আধিকারিকদের (DEO) এ বিষয়ে আগাম রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।
বুথের অন্দরমহলে ক্যামেরার অবস্থান নিয়েও কড়া নিয়ম জারি করেছে কমিশন। এমনভাবে ক্যামেরা রাখতে হবে যাতে ভোটারকে স্পষ্টভাবে চেনা যায় এবং ভোটদানের পর তাঁর আঙুলে অমোঘ কালি লাগানোর দৃশ্যটিও ক্যামেরায় ধরা পড়ে। প্রযুক্তির এই সুসংহত প্রয়োগের মাধ্যমে রিগিং বা ছাপ্পা ভোটের সম্ভাবনা কার্যত শূন্যে নামিয়ে আনাই এখন কমিশনের মূল লক্ষ্য।