নিউজ ডেস্ক: দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন বিধানসভা কেন্দ্রে প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসারদের ব্যক্তিগত ফোন নম্বর ও ঠিকানা সমাজমাধ্যমে ফাঁস হয়ে যাওয়ার ঘটনায় রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে। ভোটকর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে যখন আশঙ্কার মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে, ঠিক তখনই নড়েচড়ে বসল নির্বাচন কমিশন। পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে এবং ভোটকর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ২৫ দফার একটি দীর্ঘ ‘ডুজ অ্যান্ড ডোন্টস’ (কী করবেন ও কী করবেন না) নির্দেশিকা জারি করল কমিশন। স্পষ্ট জানানো হয়েছে, অপরিচিতদের হাতে কোনওভাবেই ফোন নম্বর দেওয়া যাবে না এবং কারও থেকে কোনও প্রকার সাহায্য বা ‘উপহার’ গ্রহণ করা চলবে না।
কমিশনের নতুন এই নির্দেশিকায় মোবাইল ব্যবহারের ওপর কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। বুথের ভিতরে একমাত্র প্রিসাইডিং অফিসারই মোবাইল ফোন সঙ্গে রাখতে পারবেন। ভোটার বা রাজনৈতিক দলের এজেন্ট—কারও জন্যই বুথের অন্দরে মোবাইল ফোন ব্যবহারের অনুমতি নেই। এমনকি কোনও ভোটার মোবাইল নিয়ে ঢোকার চেষ্টা করলে কেন্দ্রীয় বাহিনী তা বাজেয়াপ্ত করবে। ভোটকর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ডিস্ট্রিবিউশন সেন্টার থেকেই যেন তাঁরা সেক্টর অফিসার ও অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্টর অফিসারদের সঙ্গে পরিচয় করে নেন। সেই সঙ্গে রিটার্নিং অফিসার, কন্ট্রোল রুম এবং কুইক রেসপন্স টিমের (QRT) জরুরি ফোন নম্বরগুলি সবসময় হাতের কাছে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ভোটের দিন বুথের বাইরে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে মেলামেশা বা চায়ের দোকানে আড্ডা দেওয়ার ওপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এমনকি খাবারের বিষযেও বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে বলেছে কমিশন। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, জেলা প্রশাসন বা রিটার্নিং অফিসারের দেওয়া খাবার ও পানীয় ছাড়া অন্য কারও থেকে খাদ্য গ্রহণ করা যাবে না। প্রার্থীর এজেন্টদের ক্ষেত্রেও বুথের ভিতরে শুধুমাত্র জল খাওয়ার অনুমতি মিলবে। এই নিয়ম লঙ্ঘন করলে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সাহায্যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে বুথ থেকে বের করে দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে প্রিসাইডিং অফিসারকে।
এ ছাড়াও রাজনৈতিক দলের এজেন্টদের ওপর নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদি কোনও স্বীকৃত দলের এজেন্ট বিকল্প প্রতিনিধি ছাড়াই বুথ ছেড়ে চলে যান, তবে প্রিসাইডিং অফিসারকে তা তদন্ত করে দেখতে হবে। বিশেষ করে ভয় বা হুমকির কারণে এমনটা ঘটছে কি না, তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় বাহিনীর হস্তক্ষেপ চাইতে বলা হয়েছে। যদি কোনও এজেন্ট ৩০ মিনিটের বেশি সময় বুথে অনুপস্থিত থাকেন, তবে অবিলম্বে সেই তথ্য সেক্টর অফিসারকে জানাতে হবে। মূলত ভোটকর্মীদের নির্ভয়ে কাজ করতে দেওয়া এবং তাঁদের ওপর কোনও রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো যাতে সম্ভব না হয়, তা নিশ্চিত করতেই এই ২৫ দফার নিরাপত্তা কবচ তৈরি করল কমিশন।