নিউজ ডেস্ক: বঙ্গে ক্ষমতার পালাবদলের পর রাজ্যের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, অনুপ্রবেশ ও সীমান্ত চোরাচালান রোধ এবং জঙ্গি কার্যকলাপ দমনে এবার নজিরবিহীনভাবে কোমর বেঁধে নামল কেন্দ্র সরকার। একদিকে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘শিলিগুড়ি করিডর’ বা ‘চিকেনস নেক’-এর নিরাপত্তা নিশ্ছিদ্র করা এবং অন্যদিকে উন্মুক্ত আন্তর্জাতিক সীমান্তে দ্রুত কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে দেশের সুরক্ষা বলয় আঁটোসাঁটো করার মতো একের পর এক বড় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার এই নয়া ব্লুপ্রিন্ট সরেজমিনে খতিয়ে দেখতেই দু’দিনের রাজ্য সফরে এসেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আজ, শনিবার উত্তরবঙ্গের প্রশাসনিক সদর দফতর ‘উত্তরকন্যা’-য় সীমান্ত ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংক্রান্ত এক হাইপ্রোফাইল মেগা বৈঠকে বসছেন তিনি। এই বৈঠকে উপস্থিত থাকার কথা রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, আজকের এই জরুরি বৈঠকে বিএসএফ (BSF), কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত সমস্ত বাহিনীর উত্তরবঙ্গের শীর্ষ কর্তারা উপস্থিত থাকবেন। বঙ্গে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই উত্তরবঙ্গের চিকেনস নেক এবং উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের কাঁটাতারের বেড়াহীন উন্মুক্ত সীমান্তকে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত করতে বিশেষ তৎপরতা দেখিয়েছে দিল্লি। সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ এবং নতুন সীমান্ত চৌকি (BOP) তৈরির জন্য বিএসএফ-এর হাতে প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তরের কাজে গতি এনেছে নবান্ন। আজ জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার এই দীর্ঘ প্রতীক্ষিত কাজের আনুষ্ঠানিক সূচনা করবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এর পরই উত্তরকন্যায় গিয়ে চিকেনস নেকের সুরক্ষা ও অনুপ্রবেশ রোধের সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা (রিভিউ) করবেন তিনি।
উত্তরবঙ্গের সফরসূচি সেরে আজই সন্ধ্যায় কলকাতায় ফিরে আসবেন অমিত শাহ। কলকাতায় রাজ্য পুলিশের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে পুলিশ বাহিনীর আধুনিকীকরণ নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করবেন তিনি। আধুনিক অপরাধ দমনে পুলিশকে আরও দক্ষ করতে পরিকাঠামোগত কী কী পরিবর্তন প্রয়োজন, তা নিয়ে আলোচনা হবে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফরের আগেই দিল্লির আধিকারিকরা রাজ্যের পুলিশ কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে আধুনিকীকরণের খসড়া ও বকেয়া প্রস্তাবগুলি পর্যালোচনা করে নিয়েছেন।
আগামীকাল, রবিবার কলকাতায় একাধিক ঠাসা কর্মসূচি রয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর। ন্যাশনাল লাইব্রেরির একটি বিশেষ অনুষ্ঠান এবং আমূলের নতুন কারখানার শিলান্যাস-সহ মোট তিনটি কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তিনি। রবিবার রাতেই তাঁর দিল্লি ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে। রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফর সীমান্ত নিরাপত্তা ও পুলিশি পরিকাঠামোয় বড়সড় বদল আনতে চলেছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।