নিউজ ডেস্ক: বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণের জন্য ভেতরের একটি মসজিদ স্থানান্তর করার প্রক্রিয়া ঘিরে নতুন করে পারদ চড়ল রাজ্য রাজনীতিতে। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে জমিয়তে উলেমায়ে হিন্দের নেতা সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী শুক্রবার বিশাল জমায়েত ও বিক্ষোভের ডাক দিলেও, শেষ পর্যন্ত প্রশাসনের কড়া নিরাপত্তার মুখে পিছু হঠলেন তিনি। অন্য দিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, উন্নয়নের কাজে কোনও ধর্মীয় স্থান বাধা হতে পারে না।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বিমানবন্দরের আধুনিকীকরণ ও রানওয়ে সম্প্রসারণের স্বার্থেই ওই নির্দিষ্ট ধর্মীয়স্থলটি অন্য জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। যার জেরে গত কয়েকদিন ধরে সেখানে নামাজপাঠ বন্ধ রয়েছে। এরই প্রতিবাদে শুক্রবার বাঁকড়া মসজিদ চত্বরে বহু অনুগামীকে সঙ্গে নিয়ে নামাজপড়া এবং বড়সড় আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন সিদ্দিকুল্লা।
যে কোনও ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে শুক্রবার সকাল থেকেই বাঁকড়া এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করে প্রশাসন। অশান্তি রুখতে রাজ্য পুলিশের পাশাপাশি নামানো হয় কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং র্যাফ (RAF)। গোটা এলাকা নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলায় শেষ পর্যন্ত পিছু হঠতে বাধ্য হন জমিয়ত নেতা। তিনি ওই চত্বরে কোনও কর্মসূচি করতে না পেরে অন্য একটি মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়েন। পরে সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে দাবি করেন, ‘‘আমরা আইনের পরিপন্থী কোনও কাজ করতে চাইনি। পুলিশের সঙ্গে সরাসরি সঙ্ঘাতে জড়ানো আমাদের উদ্দেশ্য ছিল না।’’
তবে এই আন্দোলন ও প্রতিবাদের মানসিকতাকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। সিদ্দিকুল্লাকে কড়া ভাষায় খোঁচা দিয়ে তিনি বলেন, ‘‘উন্নয়নের কাজের সামনে মন্দির বা মসজিদ— কোনও কিছুকেই টেনে আনা উচিত নয়। সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী যত খুশি লোক নিয়ে এসে যা খুশি করতে পারেন, তার পর সরকার নিজের আইন অনুযায়ী তার মতো ব্যবস্থা নেবে। তবে একটা কথা মাথায় রাখবেন, দেশে বা রাজ্যে এখন আর বাবরের সরকার চলছে না।’’ রাজনৈতিক মহলের মতে, বঙ্গে প্রশাসনিক পরিবর্তনের পর যে কোনও ধরণের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ-প্রশাসন যে কতটা কঠোর মনোভাব নিচ্ছে, এই ঘটনা তারই অন্যতম বড় প্রমাণ।