নিউজ ডেস্ক: একদিকে রেলের জমি দখলমুক্ত করা, অন্যদিকে পূর্ত দপ্তরের (PWD) জায়গায় তৈরি বেআইনি নির্মাণ উচ্ছেদ— দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার কাকদ্বীপ ও ক্যানিংয়ে চলল প্রশাসনের বুলডোজার। হকার উচ্ছেদ এবং রাস্তার ধারের অবৈধ দোকান ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার এই জোড়া অভিযানে এক নিমেষে রুটিরুজি হারিয়ে সম্পূর্ণ দিশাহারা হয়ে পড়েছেন শতাধিক ব্যবসায়ী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা।
কাকদ্বীপে রেলের জমি দখলমুক্ত করার অভিযান:
বৃহস্পতিবার থেকেই কাকদ্বীপ স্টেশন চত্বরে রেলের জমি দখলমুক্ত করার জন্য প্রাথমিক তৎপরতা শুরু হয়েছিল। এর পর শুক্রবার সকাল থেকেই শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখার কাকদ্বীপ স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় বুলডোজার নিয়ে নামেন রেল আধিকারিকরা। রেলের জমিতে বেআইনিভাবে গজিয়ে ওঠা একের পর এক অবৈধ দোকান, ঝুপড়ি ও স্থায়ী-অস্থায়ী নির্মাণ ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
রেল কর্তৃপক্ষের দাবি, এই উচ্ছেদ অভিযান আকস্মিক নয়। অভিযানের আগে সংশ্লিষ্ট দখলদার ও হকারদের নির্দিষ্ট সময়সীমা দিয়ে একাধিকবার আইনি নোটিস পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু সেই সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পরও জমি খালি না করায় বাধ্য হয়েই এই পদক্ষেপ করতে হয়েছে। উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে যাতে কোনও বড়সড় অশান্তি না ছড়ায়, তার জন্য আগে থেকেই এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছিল বিশাল পুলিশ বাহিনী এবং রেল পুলিশ (RPF)। ফলে গোটা অভিযানটি কোনওরকম অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়। রেলের তরফে জানানো হয়েছে, যাত্রী সুরক্ষা নিশ্চিত করতে, স্টেশন চত্বরের আধুনিকীকরণ ও পরিকাঠামোগত উন্নয়নের স্বার্থেই এই জমি দখলমুক্ত করা জরুরি ছিল। তবে বিকল্প পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে এভাবে দোকান ভেঙে দেওয়ায় ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন উচ্ছেদ হওয়া হকাররা।
ক্যানিংয়ে সরকারি জমিতে চলল বুলডোজার:
কাকদ্বীপের পাশাপাশি এদিনই ক্যানিং থানার অন্তর্গত ক্যানিং-বারুইপুর রোডের পিডব্লিউডি (PWD) মোড় ও ক্যানিং মহকুমা শাসকের (SDO) বাংলোর মধ্যবর্তী এলাকায় এক বিশাল উচ্ছেদ অভিযান চালায় স্থানীয় প্রশাসন। রাস্তার ধার ঘেঁষে বেআইনিভাবে গড়ে ওঠা প্রায় ৩০টি দোকান বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলা হয়।
প্রশাসন সূত্রে খবর, গত ৩০ জুন সংশ্লিষ্ট সমস্ত দোকান মালিকদের উচ্ছেদের নোটিস দেওয়া হয়েছিল। সেখানে স্পষ্ট জানানো হয়েছিল, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে স্বউদ্যোগে দোকান সরিয়ে না নিলে প্রশাসন আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে। কিন্তু প্রশাসনের সেই হুঁশিয়ারিকে গুরুত্ব দেননি ব্যবসায়ীরা। ফলে নির্দিষ্ট সময়সীমা শেষ হতেই শুক্রবার সকালে ক্যানিং মহকুমা প্রশাসন ও পুলিশের যৌথ উদ্যোগে এই সমস্ত বেআইনি দোকানগুলি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের একাংশের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই ঘোষণা করেছিলেন যে আগামী পুজো পর্যন্ত হকারদের কোনওরকম উচ্ছেদ বা ভাঙচুর করা হবে না। কিন্তু প্রশাসনের এই আকস্মিক পদক্ষেপে মুখ্যমন্ত্রীর সেই আশ্বাসের প্রতিফলন মেলেনি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মাথায় হাত পড়া ছোট ব্যবসায়ীরা।