নিউজ ডেস্ক: ভোটের বাংলায় এবার নজিরবিহীন আইনি সংঘাত। রাজ্যের অন্তত ১৫ জন প্রার্থী এবং ৮০০ জন প্রথম সারির নেতা-কর্মীকে নির্বাচন কমিশন ‘ট্রাবল মেকার’ বা অশান্তি সৃষ্টিকারী হিসেবে চিহ্নিত করেছে বলে অভিযোগ তুলে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলো তৃণমূল কংগ্রেস। শাসকদলের আশঙ্কা, ভোটের ঠিক মুখে বা ভোটের দিন এই হেভিওয়েট প্রার্থীদের গ্রেপ্তার করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে স্তব্ধ করতে চাইছে কমিশন। এই মর্মে সোমবার প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের এজলাসে মামলা দায়েরের অনুমতি মিলেছে। আগামী বুধবার এই মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।
তৃণমূলের পক্ষে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে জেলাওয়ারি একটি তালিকা পেশ করেছেন। সেই তালিকায় কোচবিহারের উদয়ন গুহ, অভিজিৎ দে ভৌমিক, পরেশচন্দ্র অধিকারী থেকে শুরু করে বেহালা পশ্চিমের মহিলা প্রার্থী রত্না চট্টোপাধ্যায়ের নামও রয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনার নারায়ণ গোস্বামী, বিশ্বজিৎ দাস এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার জাহাঙ্গীর খান কিংবা আব্দুল খালেক মোল্লাদের মতো দাপুটে নেতাদেরও ‘ট্রাবল মেকার’ হিসেবে দাগিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে তৃণমূলের দাবি। কল্যাণবাবুর স্পষ্ট অভিযোগ, “গোটা গণতান্ত্রিক পরিবেশ ধ্বংস করতেই এই চক্রান্ত। নির্বাচনের দিন প্রার্থীদেরই যদি আটকে রাখা হয়, তবে স্বচ্ছ ভোট হবে কী করে?”
এদিকে এই আইনি লড়াইয়ের সমান্তরালে রাজনৈতিক আক্রমণ শানিয়েছেন তৃণমূলের রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন। তাঁর অভিযোগ, আগামী ১৫০ ঘণ্টার মধ্যে এক ‘সিরিয়াস অ্যাকশন প্ল্যান’ কার্যকর করার ছক কষেছে দিল্লি। ডেরেকের দাবি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সিবিআই, ইডি এবং এনআইএ প্রধানদের বৈঠকে এই নীল নকশা তৈরি হয়েছে। যেখানে বিজেপির জনসমর্থন নেই, সেখানেই কেন্দ্রীয় সংস্থাকে ব্যবহার করে তৃণমূলের ভোট ম্যানেজার ও প্রার্থীদের নিষ্ক্রিয় করার চেষ্টা চলছে। জনস্বার্থ মামলায় জাতীয় নির্বাচন কমিশন, রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক এবং পুলিশ প্রশাসনকেও পক্ষ করা হয়েছে। ভোটের ময়দানে এই ‘গ্রেপ্তারি আতঙ্ক’ শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, এখন নজর সেদিকেই।