নিউজ ডেস্ক: মোটা টাকা মুনাফার আশায় বিনিয়োগ করেছিলেন। কিন্তু দিনশেষে লাভের গুড় তো দূরে থাক, আসল পুঁজিটুকুও খোয়ালেন লেকটাউনের এক যুবক। ফেসবুকের চটকদার বিজ্ঞাপন আর ভুয়ো ট্রেডিং অ্যাপের মায়াজালে ফেঁসে এক লপ্তে ১ কোটি ২৬ লক্ষ টাকা প্রতারণার শিকার হলেন তিনি। শনিবার বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ওই যুবক। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
প্রশাসন সূত্রের খবর, কয়েক মাস আগে ফেসবুকে উচ্চ রিটার্নের একটি বিজ্ঞাপন দেখে কৌতূহলী হয়ে পড়েছিলেন ওই যুবক। সেখানে ক্লিক করতেই তাঁকে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত করে প্রতারকরা। সেখানে তথাকথিত ‘বিশেষজ্ঞ’ ও ‘অ্যাসিস্ট্যান্ট’ সেজে বসে থাকা জালিয়াতি চক্রের সদস্যরা তাঁকে নানাবিধ প্রলোভন দেখায়। বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করতে তাঁকে একটি বিশেষ ট্রেডিং অ্যাপ ডাউনলোড করতে বলা হয়। অ্যাপের স্ক্রিনে দেখা যাচ্ছিল, বিনিয়োগের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে লাভের অঙ্ক। সেই অঙ্কের মায়ায় পড়েই দফায় দফায় ১ কোটি ২৬ লক্ষ টাকা ঢেলে ফেলেন ওই যুবক।
বিপত্তি ঘটে টাকা তোলার সময়। যুবক যখন জমানো লভ্যাংশ তুলতে চান, তখন প্রতারকরা আয়কর বা প্রসেসিং ফির দোহাই দিয়ে আরও টাকা দাবি করতে থাকে। সন্দেহ হওয়ায় তিনি চাপ দিতেই রাতারাতি তাঁকে গ্রুপ থেকে বের করে দেওয়া হয়, বন্ধ হয়ে যায় যোগাযোগের ফোন নম্বরটিও। সাইবার বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে কেবল প্রবীণরা নন, দ্রুত বড়লোক হওয়ার নেশায় যুবপ্রজন্মের অনেকেই এই ধরনের ইনভেস্টমেন্ট ফ্রডের শিকার হচ্ছেন। বিধাননগর পুলিশের সতর্কবার্তা, অপরিচিত কোনও লিঙ্কে ক্লিক করে বা সোশ্যাল মিডিয়ার প্রলোভনে পা দিয়ে যাচাই না করে কোথাও বিনিয়োগ করা আত্মঘাতী হতে পারে।