নিউজ ডেস্ক: ভোট-প্রস্তুতির তদারকিতে বিন্দুমাত্র ঢিলেমি বরদাস্ত করতে নারাজ নির্বাচন কমিশন। এবার কর্তব্য চলাকালীন এলাকা ছেড়ে বিশ্রামে যাওয়ার অভিযোগে ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের ফ্লাইং স্কোয়াড টিমের (এফএসটি) দায়িত্বপ্রাপ্ত তিন ম্যাজিস্ট্রেটকে সাসপেন্ড করা হলো। সোমবার এই মর্মে কড়া নির্দেশিকা জারি করেছেন কলকাতা দক্ষিণের জেলা নির্বাচনী আধিকারিক। একই সঙ্গে রাজ্যে কড়া হাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় চার হাজার জামিন অযোগ্য ওয়ারেন্ট কার্যকরের প্রস্তুতিও শুরু করেছে কমিশন।
প্রশাসন সূত্রে খবর, গত ১৭ এপ্রিল রাত থেকে ১৮ এপ্রিল সকাল পর্যন্ত ভবানীপুরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর এলাকায় নজরদারির দায়িত্বে ছিলেন তিন ম্যাজিস্ট্রেট— সুরঞ্জন দাস, সত্যরঞ্জন পাল এবং সৌভিক নন্দী। অভিযোগ, সারারাত এলাকায় টহল দেওয়ার পরিবর্তে নিজেদের টিম নিয়ে তাঁরা দীর্ঘক্ষণ বিশ্রামে ছিলেন। এমনকি তাঁদের কাজের খতিয়ান বা ‘রেজিস্টারে’ সেই সময়ের কোনও উল্লেখ পাওয়া যায়নি। কলকাতা বন্দর ও ভবানীপুর কেন্দ্রের ব্যয় পর্যবেক্ষক (এক্সপেন্ডিচার অবজারভার) ডি রণজিৎ কুমারের নজরে বিষয়টি আসতেই কমিশন কঠোর পদক্ষেপ করে। মঙ্গলবার দুপুর ২টোর মধ্যে ওই তিন আধিকারিককে গোটা ঘটনার রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।
অন্যদিকে, ভোট যত এগিয়ে আসছে, ততই কড়া হচ্ছে প্রশাসনের রাশ। নির্বাচন কমিশনের তরফে ইতিমধ্যেই চার হাজার জামিন অযোগ্য ওয়ারেন্টের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। কমিশনের হুঁশিয়ারি, আগামীকালের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা থানায় আত্মসমর্পণ না করলে তাঁদের দ্রুত গ্রেফতার করা হবে। ভোটের আগে শহর জুড়ে অপরাধীদের ধরপাকড় ও প্রশাসনিক কর্তব্যে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কমিশন যে আপসহীন, এই জোড়া পদক্ষেপ তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।