নিউজ ডেস্ক: তিন বছরের একরত্তিকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় অবশেষে মিলল সাফল্য। দীর্ঘ ৩৩ দিনের লুকোচুরি শেষ করে পুলিশের জালে ধরা পড়ল অভিযুক্ত সৎ বাবা। শুক্রবার সকালে ময়দান থানার গঙ্গাসাগর গ্রাউন্ড এলাকা থেকে ২৬ বছরের ওই যুবককে গ্রেফতার করা হয়। এই নৃশংস ঘটনার পর সে ঝাড়খণ্ডে পালিয়ে গেলেও, কলকাতায় পা রাখামাত্রই ওত পেতে থাকা পুলিশের জালে ধরা পড়ে সে।
ঘটনার বিবরণ: ঘটনাটি ঘটেছিল গত ২১ মার্চ বিকেলে। ময়দান থানা এলাকায় একটি ঝুপড়ির কাছে খেলছিল তিন বছরের ওই শিশুটি। অভিযোগ, সেই সময় তার সৎ বাবা তাকে চকোলেটের প্রলোভন দেখিয়ে ঝোপের আড়ালে নিয়ে যায়। সেখানে শিশুটির ওপর পাশবিক যৌন নির্যাতন চালানোর পর তাকে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয় বলে অভিযোগ। এরপর অপরাধ ঢাকতে নিথর দেহটি স্ত্রীর কাছে নিয়ে এসে ওই যুবক দাবি করে, বাচ্চাটিকে মৃত অবস্থায় ঝোপের কাছে পড়ে থাকতে দেখেছে সে। কিন্তু পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও চিকিৎসকদের রিপোর্টে ধর্ষণের প্রমাণ মিলতেই গা ঢাকা দেয় অভিযুক্ত।
তদন্ত ও গ্রেফতারি: শিশুর মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তকারী অফিসার চামেলী মণ্ডলের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছিল। পুলিশ জানতে পারে, অভিযুক্ত যুবক ঝাড়খণ্ডে গা ঢাকা দিয়েছে। তার ওপর নিরন্তর নজরদারি চালানোর পর বৃহস্পতিবার সে কলকাতায় ফিরছে বলে খবর পায় পুলিশ। শুক্রবার ভোর পৌনে সাতটা নাগাদ ময়দান এলাকা থেকেই তাকে পাকড়াও করা হয়। ধৃতের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, খুন এবং পকসো (POCSO) আইনের একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে।
আদালতের নির্দেশ: এদিন অভিযুক্তকে বিচারভবনের বিশেষ পকসো আদালতে হাজির করা হলে বিচারক পাপিয়া দাস তাকে ৭ মে পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মামলার বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি সৈকত পাণ্ডে জানান, আগামী সপ্তাহে সাক্ষীদের গোপন জবানবন্দি রেকর্ড করার প্রক্রিয়া শুরু হবে। এক অবোধ শিশুকে এমন নৃশংসভাবে খুনের ঘটনায় অভিযুক্তের কঠোরতম সাজার দাবি জানিয়েছেন নিহতের পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা।