নিউজ ডেস্ক: ভোটের নির্ঘণ্ট বেজে যাওয়ার পরেই রাজ্যে কোমর বেঁধে নামছে নির্বাচন কমিশন। এবার আর শুধু নথিপত্রে নয়, সরাসরি ময়দানে নেমে কাজ তদারকি করছেন পুলিশ পর্যবেক্ষকরা। তাঁদের কড়া নির্দেশ— এলাকার ‘হিস্ট্রি শিটার’ বা দাগি অপরাধীদের যেভাবেই হোক ধরে আনতে হবে থানায়। পর্যবেক্ষকদের এই ঝটিকা সফর এবং একের পর এক প্রশ্নে এখন রীতিমতো কালঘাম ছুটছে বিভিন্ন থানার অফিসারদের। নিশানায় রয়েছেন গত পাঁচ বছর ধরে এলাকায় দাপিয়ে বেড়ানো সেই সব দুষ্কৃতী, যাদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অপরাধের রেকর্ড রয়েছে।
কমিশন সূত্রে খবর, অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছিল স্থানীয় থানাগুলি দাগি অপরাধীদের ডেকে পাঠাতে গড়িমসি করছে। এমনকি অনেক সময় ভুয়ো কাগজ তৈরি করে দেখানো হচ্ছে যে দুষ্কৃতীদের থেকে ‘মুচলেকা’ বা সতর্কতামূলক বন্ড নেওয়া হয়েছে, অথচ বাস্তবে তেমন কিছুই হয়নি। এই জালিয়াতি নজরে আসতেই কৌশল বদলেছেন পর্যবেক্ষকরা। তাঁরা এখন নিজেরাই আচমকা থানায় হাজির হচ্ছেন এবং গত পাঁচ বছরের অপরাধের খতিয়ান দেখে চিহ্নিত দুষ্কৃতীদের তাঁর সামনেই হাজির করার নির্দেশ দিচ্ছেন। নির্দেশ পালন করতে গিয়ে অপরাধীর ডেরায় ছুটতে হচ্ছে পুলিশকে। কোনও অফিসার খালি হাতে ফিরলে তাঁকে প্রশ্নবানে বিদ্ধ করছেন পর্যবেক্ষকরা।
থানায় নিয়ে আসার পর ওইসব অপরাধীদের স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন পর্যবেক্ষকরা। তাঁদের সাফ জানানো হচ্ছে, ভোটের দিন বুথে বা এলাকায় কোনওরকম অশান্তি পাকানো কিংবা ভোটারদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করলে তার পরিণাম হবে মারাত্মক। এমন পদক্ষেপ করা হবে যার ফল অপরাধীকে দীর্ঘদিন ভোগ করতে হতে পারে। দুষ্কৃতীরা বাইরে কেন ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং তাদের বর্তমান অবস্থান কী— এই সংক্রান্ত প্রতিটি তথ্য খুঁটিয়ে দেখছেন কমিশনের প্রতিনিধিরা।
যদি কোনও অপরাধীকে খুঁজে না পাওয়া যায়, তবে কেন তাকে ধরা যাচ্ছে না, তার মোবাইল লোকেশন কোথায় অথবা সে কোথায় গা ঢাকা দিয়ে থাকতে পারে— প্রতিটি বিষয়েই পুঙ্খানুপুঙ্খ রিপোর্ট দিতে হচ্ছে অফিসারদের। পুলিশ পর্যবেক্ষকদের এই ‘তটস্থ’ মেজাজে কার্যত কোণঠাসা নিচুতলার পুলিশকর্মীরা। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট সুনিশ্চিত করতে এবার কোনওরকম আপস করতে রাজি নয় কমিশন।