নিউজ ডেস্ক: সিলিং ফ্যানের থেকে ঝুলছে প্রেমিকার নিথর দেহ, আর ঠিক নিচে রক্ত ভেসে যাওয়া মেঝের ওপর যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন প্রেমিক! রবিবার রাতে কলকাতার উপকণ্ঠে নিউটাউনের একটি ভাড়া ফ্ল্যাট থেকে লিভ-ইন সঙ্গীদের এই মারাত্মক ও মর্মান্তিক দৃশ্য উদ্ধারকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মৃত তরুণীর নাম তৃষা সাহা (২৫), তাঁর বাড়ি বারাকপুরে। অন্যদিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন যুবকের নাম সৌভিক রায় (৩০), তিনি নৈহাটির বাসিন্দা। সৌভিক কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। ঘটনাটি আদতে আত্মহত্যা নাকি এর পেছনে রয়েছে অন্য কোনো রহস্যজনক খুনের ছক, তা খতিয়ে দেখছে টেকনো সিটি থানার পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর, মাত্র মাসচারেক আগে নিউটাউনের ওই ফ্ল্যাটটি সাড়ে ১১ হাজার টাকায় ভাড়া নিয়েছিলেন সৌভিক ও তৃষা। পেশায় তথ্যপ্রযুক্তি (IT) কর্মী সৌভিক এবং চাকরিজীবী তৃষা ফ্ল্যাট মালিককে জানিয়েছিলেন, কর্মক্ষেত্রে যাতায়াতের সুবিধার জন্যই তাঁরা বারাকপুর ছেড়ে এখানে থাকছেন। প্রতিবেশীদের দাবি, এই চার মাসে তাঁদের মধ্যে কখনও কোনো চিৎকার, কথা কাটাকাটি বা অশান্তি শোনেনি কেউ। দু’জনেই যথেষ্ট শান্ত প্রকৃতির ও হাসিমুখী ছিলেন।
ঘটনার রাতে ফ্ল্যাট মালিকের কাছে সরাসরি ফোন যায় সৌভিকের। তিনি ফোন করে জানান যে তৃষা ফ্যানে গামছা দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন এবং দ্রুত পুলিশে খবর দিতে বলেন। খবর পেয়ে ফ্ল্যাট মালিক ছুটে এসে একাধিকবার বেল বাজালেও দরজা খোলেনি কেউ। সৌভিকের মোবাইলে টানা ১০-১২ বার ফোন করার পর, অবশেষে হাতের শিরা কাটা রক্তঝরা অবস্থায় কোনোরকমে দরজা খোলেন সৌভিক নিজে। ভেতরে ঢুকেই দেখা যায়, তৃষার দেহ ঝুলছে এবং চারদিকের মেঝে রক্তে থইথই করছে। ঘরের মধ্যে তরুণীর পায়েও রক্তের দাগ দেখতে পাওয়া গেছে।
তদন্তকারীদের প্রাথমিক সংশয়, তৃষা ঝুলে পড়ার পর কি সৌভিক তাঁর পা ধরে বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলেন, নাকি অন্য কোনো ঘটনার টানাপোড়েন ঘটেছিল? উদ্ধার হওয়া ঘর থেকে কোনো সুসাইড নোট মেলেনি। প্রতিবেশীদের প্রশ্ন, প্রেমিকের সামনে কীভাবে তরুণী আত্মহত্যা করলেন এবং কোনো চিৎকার বা বাঁচানোর ছটফটানি কেন কেউ টের পেল না? এক পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, ঘটনার একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী সৌভিক সুস্থ হলে তাঁকে জেরা করলেই সমস্ত ঘটনার আসল সত্য সামনে আসবে। ইতিমধ্যেই দুই পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষা করছে পুলিশ।