নিউজ ডেস্ক: আসন্ন পুরসভা নির্বাচনের আগে উত্তর ২৪ পরগনার বারাসত সাংগঠনিক জেলায় দলের অন্দরে বাড়তে থাকা মতভেদ ও গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব দূর করতে কড়া অবস্থান নিল বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব। জেলা নেতৃত্বকে উপেক্ষা করে নিজেদের মতো রাজনৈতিক কর্মসূচি চালানো বিধায়কদের স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, সংগঠনই শেষ কথা বলবে এবং জেলা নেতৃত্বকে এড়িয়ে কোনওভাবেই সাংগঠনিক রাজনীতি করা চলবে না। ব্যক্তিগত প্রভাব খাটানোর কোনও জায়গা দলে নেই। গত ৯ জুলাই বারাসত সাংগঠনিক জেলার কোর কমিটির বৈঠকে উপস্থিত থেকে রাজ্যের সাধারণ সম্পাদিকা শশী অগ্নিহোত্রী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় সহ একাধিক শীর্ষ নেতা এই বার্তা দিয়েছেন।
সূত্রে জানা গিয়েছে, বারাসত সাংগঠনিক জেলার আওতাধীন হাবড়া, অশোকনগর, বারাসত, রাজারহাট-নিউটাউন এবং বিধাননগর বিধানসভা কেন্দ্রের দলীয় বিধায়কদের সঙ্গে জেলা নেতৃত্বের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই অস্বস্তিকর। অভিযোগ, জেলার সংগঠনকে কার্যত উপেক্ষা করে এক শ্রেণির বিধায়ক নিজেদের অনুগামীদের নিয়ে আলাদাভাবে রাজনৈতিক কর্মসূচি চালাচ্ছেন। এর ফলে একই জেলায় একাধিক ক্ষমতা কেন্দ্র তৈরি হয়েছে, যা নীচুতলার কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। অন্যদিকে, বিরোধীদের হাতেও দলের অন্দরের এই বিভাজনের খবর পৌঁছে যাচ্ছে। আর এই পরিস্থিতিতে কোর কমিটির বৈঠকে উপস্থিত বিধায়কদের কার্যত সতর্ক করে দিয়ে বলা হয়েছে যে, সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার চূড়ান্ত ক্ষমতা কেবল জেলা সংগঠনেরই রয়েছে। জেলা নেতৃত্বকে অন্ধকারে রেখে কোনও রাজনৈতিক উদ্যোগ বা কর্মসূচি কিছুতেই মেনে নেওয়া হবে না।
পুরভোটের আগে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের বদলে দলের ঐক্যবদ্ধ ছবি তুলে ধরতেই রাজ্য নেতৃত্ব এই কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। বৈঠকের বিষয়ে বিজেপির বারাসত সাংগঠনিক জেলার সভাপতি রাজীব পোদ্দার বলেন, “রাজ্য নেতৃত্ব আমাদের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছে এবং সাংগঠনিক কাজকর্মকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে।” রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই জেলার অন্দরের টানাপড়েন সময়মতো থামাতে না পারলে আসন্ন পুরভোটে বিজেপিকে বড়সড় মূল্য চোকাতে হতে পারে। তাই ভোটের আগে সংগঠনের ভিতকে মজবুত করতে কড়া অবস্থান নিয়ে সংগঠনের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে চাইছে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব।