নিউজ ডেস্ক: ভোটের আগের রাত। টানটান উত্তেজনা নির্বাচন কমিশনের কন্ট্রোল রুমে। হঠাৎই ফোন— ‘হ্যালো স্যার, শিগগির আসুন! এলাকায় সন্ত্রাস ছড়াতে প্রচুর বহিরাগত ঢুকেছে একতিল বাড়িতে!’ খবর পাওয়ামাত্রই শুরু তৎপরতা। বিশেষ পর্যবেক্ষকের নেতৃত্বে হুটার বাজিয়ে, নীলবাতি গাড়ি ছুটিয়ে এলাকায় পৌঁছল বিশাল কেন্দ্রীয় বাহিনী। টার্গেট নির্দিষ্ট। স্বয়ংক্রিয় রাইফেল হাতে জওয়ানরা ঘিরে ফেললেন সেই বাড়ি। কিন্তু ভিতরে ঢুকতেই যা দেখলেন, তাতে চক্ষু চড়কগাছ দুঁদে আধিকারিকদের!
বাড়ির ভিতরে তখন রজনীগন্ধার সুবাস। চারদিকে হাসির রোল। লাল বেনারসি পরা কনে আর মাথায় টোপর দেওয়া বরের সামনে যেতেই মুহূর্তের নৈঃশব্দ্য। জওয়ানরা চিৎকার করে উঠলেন— ‘হ্যান্ডস আপ!’ থমকে গেল সানাইয়ের সুর। আধিকারিকরা দেখলেন, সেখানে কোনো সশস্ত্র বহিরাগত নেই; বরং অতিথিদের প্লেটে তখন ধোঁয়া ওঠা মটন বিরিয়ানি আর গরম ফিশ ফ্রাই! মঙ্গলবার রাতে লেকটাউন এলাকায় এমনই এক অদ্ভুত ঘটনার সাক্ষী থাকলেন বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত এবং বিশেষ পুলিশ পর্যবেক্ষক এন কে মিশ্র।
ভুল জায়গায় হানা দিয়েছেন বুঝতে পেরে তখন কমিশনের কর্তাদের ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি অবস্থা। চরম অস্বস্তিতে আধিকারিকরা যখন ‘সরি’ বলে বেরিয়ে যাওয়ার পথ খুঁজছেন, তখনই শুরু হলো আসল বিপত্তি। বঙ্গীয় আতিথেয়তার জোয়ারে তখন ভেসে যাওয়ার জোগাড় তাঁদের। ‘স্যার, এসেই যখন পড়েছেন, কিছু না খেয়ে গেলে অমঙ্গল হবে’— কনেপক্ষের এই আবদারে তখন রীতিমতো ঘাম ছুটছে কর্তাদের। হাতে গরম ফিশ ফ্রাই আর মিষ্টির প্লেট নিয়ে পিছু ছাড়তে নারাজ বরপক্ষও।
শেষমেশ মানরক্ষা করতে শুধু জল খেয়েই সেখান থেকে একপ্রকার ‘পলায়ন’ করলেন আধিকারিকরা। হুটারের শব্দ মিলিয়ে যেতেই আবার সানাইয়ের সুর আর মন্ত্রোচ্চারণে ছন্দে ফিরল লেকটাউনের সেই বিয়েবাড়ি। তবে কমিশনের অন্দরে এখন একটাই প্রশ্ন— কোন সেই ‘রসিক’ ব্যক্তি ভুল খবর দিয়ে খোদ পর্যবেক্ষকদের এমন প্রেস্টিজ পাংচার করে দিলেন?