নিউজ ডেস্ক: নির্বাচনের মুখে বারাকপুর শিল্পাঞ্চলে বড়সড় পদক্ষেপ করল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। ভোটের কাজে অনিয়ম এবং ভোটদানের গোপনীয়তা ভঙ্গের গুরুতর অভিযোগে বারাকপুরের শিউলি হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক সৈয়দ ইকবাল মুস্তাককে তড়িঘড়ি বদলি করা হলো বসিরহাট হাই স্কুলে। কমিশনের নির্দেশে উত্তর ২৪ পরগনা জেলা স্কুল পরিদর্শক ইতিমধ্য়েই এই মর্মে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন। আগামী ৬ মে পর্যন্ত ওই প্রধান শিক্ষককে বসিরহাটেই থাকতে হবে বলে জানা গিয়েছে।
কমিশন সূত্রে খবর, সৈয়দ ইকবাল মুস্তাক শিউলি হাই স্কুলে ‘ভেন্যু কো-অর্ডিনেটর’ হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন। অভিযোগ উঠেছে, গত ১৯ ও ২০ এপ্রিল ওই স্কুলে ভোটকর্মীদের পোস্টাল ব্যালটে ভোটদানের সময় তিনি সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি চালাচ্ছিলেন। ভোটদানের গোপনীয়তা বজায় রাখা নির্বাচনের অন্যতম প্রধান শর্ত, যা লঙ্ঘিত হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে মনে করছে কমিশন। এই অভিযোগ খতিয়ে দেখার পরই সংশ্লিষ্ট প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে এই বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বারাকপুরের রাজনৈতিক মহলে চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিজেপির দাবি, ওই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ নতুন নয়। গত মার্চ মাসে ভোটকর্মীদের প্রশিক্ষণ চলাকালীন নোয়াপাড়ার তৃণমূল প্রার্থী তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্যের সঙ্গে তাঁকে দেখা গিয়েছিল বলে অভিযোগ তুলেছিলেন বিজেপি প্রার্থী অর্জুন সিং। তবে সমস্ত অভিযোগই অস্বীকার করেছেন সৈয়দ ইকবাল মুস্তাক। তাঁর দাবি, “কেন আমাকে বদলি করা হলো, তা আমার জানা নেই। আর তৃণমূল প্রার্থীর সঙ্গে রাস্তায় দেখা হওয়াটা নিছকই সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল।” ভোটের মাত্র কয়েক দিন আগে এই নজিরবিহীন বদলির ঘটনা শিক্ষা ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক শোরগোল ফেলে দিয়েছে।