নিউজ ডেস্ক: বারুইপুরের চাঞ্চল্যকর ঘটনার প্রতিবাদে গাড়ি ভাঙচুর, গণপিটুনিতে মৃত্যু এবং দফায় দফায় হিংসা ছড়ানোর অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া সিপিএম নেতা লাহেক আলির জামিনের আবেদন খারিজ করে দিল আদালত। মঙ্গলবার বারুইপুর আদালতের বিচারক তাঁকে আবারও ৩ দিনের জন্য পুলিশ হেপাজতে পাঠানোর সুনির্দিষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন।
এর আগে প্রথম দফায় বিচারক লাহেককে ৮ দিনের পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই হেপাজতের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ায় মঙ্গলবার পুনরায় কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় তাঁকে বারুইপুর আদালতে পেশ করা হয়। সওয়াল-জবাব চলাকালীন আদালত কক্ষে সরকারি আইনজীবী এবং বিজেপির আইনজীবীদের সঙ্গে বাম পন্থী আইনজীবীদের তুমুল কথা কাটাকাটি ও তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে বিচারক কিছুটা সময়ের জন্য রায় স্থগিত (‘অর্ডার রিজার্ভ’) রাখেন। পরবর্তীতে সমস্ত নথি ও সওয়াল-জবাব খতিয়ে দেখে সন্ধ্যায় ওই সিপিএম নেতাকে ৩ দিনের জন্য পুনরায় পুলিশ হেপাজতে পাঠানোর রায় ঘোষণা করেন বিচারক।
এদিন আদালতে শুনানির সময় সরকারি পক্ষের আইনজীবী বিভাস চট্টোপাধ্যায় ধৃত লাহেককে আরও ৬ দিনের জন্য পুলিশ হেপাজতে নেওয়ার আবেদন জানিয়ে সওয়াল করেন। তিনি আদালতে জানান, ঘটনার মূল চক্রান্ত ও হিংসা ছড়ানোর তদন্তে এখনও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সূত্র মেলা বাকি রয়েছে, তাই তাঁকে হেফাজতে নিয়ে জেরা করা প্রয়োজন। অন্যদিকে, ধৃতের পক্ষে আইনজীবী সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায় জামিনের স্বপক্ষে যুক্তি দিয়ে পাল্টা দাবি করেন, “ইতিমধ্যে দীর্ঘদিন পুলিশ হেপাজতে রেখেও তদন্তকারীরা নতুন কিছু উদ্ধার করতে পারেনি। সবকটি এফআইআর (FIR)-কে হাতিয়ার করে বেআইনিভাবে আটকে রাখাই পুলিশের মূল উদ্দেশ্য।”
মঙ্গলবার সিপিএম নেতা লাহেক আলিকে বারুইপুর আদালতে হাজির করাকে কেন্দ্র করে চত্বর জুড়ে মোতায়েন করা হয়েছিল ব্যাপক পুলিশ বাহিনী। ধৃত নেতার সমর্থনে বারুইপুর আদালত চত্বরে হাজির ছিলেন সিপিএমের জেলা সম্পাদক রতন বাগচী, দলের অন্যতম শীর্ষ নেতা রাহুল ঘোষ সহ বহু বাম কর্মী-সমর্থক। আদালতের এই নির্দেশের পর এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।