নিউজ ডেস্ক: জমি দখলের অভিযোগে ধৃত ব্যবসায়ী জয় কামদারের ডানা যে শুধু এ দেশেই নয়, সুদূর ব্রিটেন, দুবাই বা মালয়েশিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল— সোমবার ব্যাঙ্কশাল আদালতে এমনই চাঞ্চল্যকর দাবি করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। ধৃতের মোবাইল ফোন থেকে আন্তর্জাতিক হাওলা অপারেটরদের সঙ্গে কথোপকথনের একাধিক তথ্যপ্রমাণ মেলায় তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্থা। আগামী ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত তাঁকে ইডি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
তদন্তকারীদের দাবি, ধৃত ব্যবসায়ীর মোবাইল থেকে উদ্ধার হওয়া তথ্যে দেখা গিয়েছে যে, তিনি বিদেশের হাওলা কারবারিদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। এমনকি লেনদেন নিশ্চিত করার জন্য বিদেশি মুদ্রার বিশেষ ‘কোড’ ছবি আদান-প্রদানও চলত। ইডির আইনজীবী ধীরাজ ত্রিবেদী আদালতে জানান, কেবল আর্থিক অপরাধ নয়, জয় কামদার পুলিশের বদলি ও পদোন্নতির ক্ষেত্রেও প্রভাবশালী ভূমিকা নিতেন। তদন্তে দেখা গিয়েছে, সিঁথি থানার এক অতিরিক্ত ওসি কাঙ্ক্ষিত পোস্টিং পাওয়ার পর জয়কে ‘মাই লর্ড’ বলে সম্বোধন করেছিলেন! পুলিশ আধিকারিকদের একাংশের ওপর এই প্রভাব খাটিয়েই জয় ও তাঁর সহযোগী বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পু জমি দখলের সিন্ডিকেট চালাতেন বলে অভিযোগ।
এদিন জয়ের আইনজীবীরা সওয়াল করেন যে, তাঁর মক্কেলের সঙ্গে সোনা পাপ্পুর লেনদেন বেআইনি নয় এবং সমস্ত নথি ইতিমধ্যেই ইডির কাছে রয়েছে। তবে হাওলা যোগের অকাট্য প্রমাণের মুখে সেই আবেদন খারিজ হয়ে যায়। অন্যদিকে, রেশন দুর্নীতির মামলায় অভিনেত্রী নুসরত জাহানকে আগামী বুধবার তলব করেছে ইডি। পাশাপাশি, রবিবার ডিসি পদমর্যাদার অফিসার শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের বাড়িতে প্রায় ২০ ঘণ্টা তল্লাশি শেষে এই তদন্তের জাল যে প্রশাসনের আরও গভীরে ছড়িয়েছে, সেই ইঙ্গিতই মিলছে।