নিউজ ডেস্ক: আড়াই লক্ষাধিক কেন্দ্রীয় বাহিনী থেকে সাঁজোয়া গাড়ি— রাজ্যে বিধানসভা ভোটের আগে নিরাপত্তার বহর আকাশছোঁয়া। অথচ এত কিছুর পরও ভোটের ময়দানে অশান্তি রুখতে শেষ পর্যন্ত রাজ্যের পুলিশ আধিকারিকদের ওপরেই চরম ‘ফতোয়া’ জারি করল নির্বাচন কমিশন। সূত্রের খবর, আইসি-ওসি থেকে শুরু করে পুলিশ সুপার ও কমিশনারদের সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এলাকায় অশান্তি হলে স্রেফ বদলি নয়, সরাসরি চাকরি থেকে বরখাস্ত বা এফআইআর-এর মুখে পড়তে হতে পারে তাঁদের। যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্কের দানা বেঁধেছে।
কমিশনের জারি করা নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ভোটের দিন নিজ নিজ এলাকায় শান্তি বজায় রাখার যাবতীয় দায়ভার নিতে হবে সংশ্লিষ্ট থানার বড়বাবুদের। এলাকায় অস্ত্র বা বোমাবাজির খবর মিললে এবং পুলিশের তৎপরতায় খামতি দেখা গেলে, প্রথমে সংশ্লিষ্ট আধিকারিককে সাসপেন্ড করা হবে। এরপর বিভাগীয় তদন্তে দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁকে স্থায়ীভাবে বরখাস্তও করা হতে পারে। এমনকি পদস্থ আধিকারিকরাও এই রোষের বাইরে থাকবেন না। এই সিদ্ধান্তকে কটাক্ষ করে তৃণমূলের প্রশ্ন, “বিপুল বাহিনী এনেও কি কমিশনের আত্মবিশ্বাস তলানিতে? তাই কি শেষ পর্যন্ত রাজ্যের পুলিশের কাঁধেই বন্দুক রাখতে হচ্ছে?”
একই সঙ্গে সিভিক ভলান্টিয়ার, ভিলেজ পুলিশ এবং গ্রিন পুলিশদের নিয়ে এক নজিরবিহীন নির্দেশিকা জারি করেছে কমিশন। ভোটের তিনদিন আগেই তাঁদের কাজ থেকে সরিয়ে সরাসরি পুলিশ লাইনে পাঠিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনের কোনও কাজেই তাঁদের যুক্ত করা যাবে না। ইউনিফর্ম পরে বুথমুখী হওয়াতেও থাকছে নিষেধাজ্ঞা। সাধারণ নাগরিক হিসেবে সাধারণ পোশাকে তাঁরা ভোট দিতে পারলেও কোনওভাবেই ভোটারদের প্রভাবিত করতে পারবেন না।
অন্যদিকে, এবার জাঁতাকলে পড়েছেন প্রিসাইডিং অফিসাররাও। বুথে যাওয়ার আগে তাঁদের থেকে ‘মুচলেকা’ নেওয়ার নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আগে আধঘণ্টার বিশেষ প্রশিক্ষণ এবং মুচলেকা দেওয়ার এই নির্দেশিকা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রিসাইডিং অফিসারদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, সমস্ত দায়িত্ব কর্মীদের ওপর চাপিয়ে কমিশন কি নিজের দায় ঝেড়ে ফেলতে চাইছে? কেন্দ্রীয় বাহিনী ও প্রশাসনিক কড়াকড়ির এই দড়ি টানাটানির মধ্যে বাংলার ভোট শেষ পর্যন্ত কতটা শান্তিপূর্ণ হয়, এখন সেটাই দেখার।