নিউজ ডেস্ক: ‘ভোট শেষ, ডিউটি শেষ’— কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি-র ভূমিকা নিয়ে ফের এমনই কটাক্ষ ছুড়ে দিল তৃণমূল কংগ্রেস। প্রেক্ষাপট, দিল্লির পাতিয়ালা হাউস কোর্ট। বৃহস্পতিবার জামিন পেয়ে গেলেন আইপ্যাক ডিরেক্টর ভিনেশ চান্ডেল। আশ্চর্যজনকভাবে, এতদিন যাঁর মুক্তিতে তথ্য-প্রমাণ নষ্টের আশঙ্কা প্রকাশ করছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট, এদিন তাঁর জামিন আবেদনে কোনো আপত্তির শব্দই খরচ করল না কেন্দ্রীয় এই এজেন্সি।
গত ১৩ এপ্রিল রাতে আর্থিক তছরুপ ও হাওলা লেনদেনের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল ভিনেশকে। সেই সময় আদালতে ইডি দাবি করেছিল, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাচারের তথ্য মিলেছে। এমনকি ১০ দিনের হেফাজতও নেওয়া হয়েছিল। ভোটের মুখে দেশের একাধিক বিরোধী দলের ভোটকুশলী সংস্থার কর্তাকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। বিরোধীদের অভিযোগ ছিল, মোদি-শাহের নির্দেশে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই পদক্ষেপ করা হয়েছে।
কিন্তু বৃহস্পতিবার আদালতের ছবিটা ছিল একেবারেই উল্টো। ভিনেশের আইনজীবীরা সওয়ালে জানান, এজেন্সির কাছে লেনদেনের কোনো পোক্ত নথি নেই। এমনকি তিনি যে ‘প্রসিডস অব ক্রাইম’-এর টাকা পেয়েছেন, তারও প্রমাণ দিতে পারেনি ইডি। আশ্চর্যজনকভাবে ইডির আইনজীবী এদিন জামিনের বিরোধিতা না করে শুধুমাত্র কিছু শর্ত আরোপের কথা বলেন।
বিচারক শেষ পর্যন্ত শর্তসাপেক্ষে ভিনেশ চান্ডেলের জামিন মঞ্জুর করেছেন। তাঁকে পাসপোর্ট জমা রাখতে হবে এবং তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে। তবে তৃণমূলের দাবি, ভোটের কাজ মিটে যেতেই ইডি এখন প্রমাণ পেশ করতে না পেরে পিছু হটছে। এজেন্সি যে হোমওয়ার্ক নিয়ে ময়দানে নেমেছিল, তা যে সারবত্তাহীন, জামিন পাওয়াই তার প্রমাণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।