নিউজ ডেস্ক: ‘‘মৃত্যু ভয় আমি পাই না। তবে চুপচাপ মরে যাব, সেটাও হতে পারে না। আমাকে মারতে এলে অন্তত দুটোকে নামাব।’’— ভরসন্ধ্যায় এমনই এক বিস্ফোরক বার্তা দিলেন হুগলির উত্তরপাড়ার নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক দীপাঞ্জন চক্রবর্তী। নিজের সুরক্ষায় ইদানীং একটি ১২ কার্তুজের ‘পয়েন্ট ৩২ ওয়েবলি’ ( .32 Webley) পিস্তল সঙ্গে রাখছেন তিনি। বিধানসভা নির্বাচনে জেতার পর মাস দেড়-দুয়েক হল এই আগ্নেয়াস্ত্রটির লাইসেন্স পেয়েছেন বিধায়ক। এখন সেটিই তাঁর নিত্যসঙ্গী। এমনকি রাতে ঘুমোতে যাওয়ার সময়ও পিস্তলটি থাকে বালিশের পাশে। নিজের এই আগ্নেয়াস্ত্রটিকে রসিকতা করে ‘লয়্যাল গার্লফ্রেন্ড’ বা ‘বিশ্বস্ত বান্ধবী’ বলেও অভিহিত করেছেন তিনি।
এবারের বিধানসভা নির্বাচনে উত্তরপাড়া কেন্দ্র থেকে বিজেপি প্রার্থী হিসেবে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন এনএসজি (NSG)-র প্রাক্তন কমান্ডো দীপাঞ্জন চক্রবর্তী। রাজনীতিতে আসার আগে দেশের সুরক্ষায় দীপাঞ্জনের অনন্য অবদান সর্বজনবিদিত। দেশের স্বার্থে একাধিক অভিযানে অংশ নিয়ে নিজের জীবন বিপন্ন করেছেন তিনি। দেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের একনিষ্ঠ অনুগামী দীপাঞ্জনবাবু এক লড়াইতে নিজের পায়ের গুরুতর ক্ষতি করেছিলেন। বর্তমানে স্ক্র্যাচের সাহায্য নিয়ে হাঁটাচলা করেন তিনি। প্রাক্তন এই জওয়ানের দাবি, বছর দুয়েক আগে বাংলাদেশের কিছু দুষ্কৃতী গোষ্ঠী তাঁর মাথার দাম ৫০ লক্ষ টাকা ধার্য করেছিল। এর পর থেকে একাধিকবার তাঁকে হুমকি ফোন, গালিগালাজ শুনতে হয়েছে। এমনকি তাঁর স্ত্রীর ফেসবুক পেজও হ্যাক করা হয়েছিল।
তবে কোনও হুমকিতেই যে তিনি দমে যাওয়ার পাত্র নন, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন উত্তরপাড়ার বিধায়ক। আগে যেভাবে দেশের সুরক্ষায় নিয়োজিত ছিলেন, এখন বিধায়ক হওয়ার পর তেমনই উত্তরপাড়াকে দুষ্কৃতী এবং সমাজবিরোধী মুক্ত করার লড়াইয়ে ব্রতী হয়েছেন। এলাকায় সিন্ডিকেট ও অবৈধ কার্যকলাপের বিরুদ্ধে সরব হওয়াতে কিছু সমাজবিরোধী তাঁকে নিয়ে নতুন করে ছক কষছে— এমন খবরও এসেছে তাঁর কাছে। আর সেই কারণেই নিজের সুরক্ষায় নিজেই পিস্তল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
কিন্তু চার-পাঁচ জন সরকারি বডিগার্ড বা নিরাপত্তারক্ষী থাকা সত্ত্বেও কেন তাঁকে ব্যক্তিগত পিস্তল ব্যবহার করতে হচ্ছে? এই প্রশ্নের জবাবে প্রাক্তন এই এনএসজি কমান্ডো বলেন, ‘‘চার-পাঁচজন বডিগার্ড নিয়ে আমাকে এলাকার মানুষ ঘুরতে দেখলে, তাঁদের মধ্যে একটা ভয়ের পরিবেশ তৈরি হবে। মানুষের মন থেকে ভয় দূর করাই আমার কাজ। তাই বডিগার্ড না রেখে আমি নিজেই নিজেকে রক্ষা করতে প্রস্তুত।’’
একই সঙ্গে বর্তমান শাসকদলের বিধায়ক হয়েও কেন এই আগ্নেয়াস্ত্র নিতে হল, তার কারণও স্পষ্ট করেছেন দীপাঞ্জনবাবু। তিনি জানান, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনার পরই আমি এই পিস্তলটি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। আমি উত্তরপাড়াকে সম্পূর্ণ দুষ্কৃতী মুক্ত করতে চাই। নর্দমা পরিষ্কার করতে নেমেছি যখন, তখন জানি পাঁকের মধ্যে অনেক বিষাক্ত পোকা থাকতে পারে। সেই কারণেই আগে থেকে একটু প্রস্তুত হয়ে থাকা।’’ প্রাক্তন সেনাকর্মী তথা বিধায়কের এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই হুগলি জেলার রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।