নিউজ ডেস্ক: প্রায় দু’বছরের ভালোবাসার সম্পর্কে হঠাৎই ছন্দপতন ও মারাত্মক ফাটল। আর সেই আইনি ও সামাজিক টানালেপোড়েনের জেরে মধ্যমগ্রামের যশোর রোড সংলগ্ন এক হোটেলের বন্ধ ঘর থেকে উদ্ধার হলো ৪০ বছরের গৃহবধূ রীনা রামের ঝুলন্ত নিথর দেহ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। মৃতার পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে তাঁর লিভ-ইন পার্টনার তথা বয়সে ১২ বছরের ছোট গৌরব শেঠকে গ্রেফতার করেছে মধ্যমগ্রাম থানার পুলিশ। মঙ্গলবার ধৃত তরুণকে বারাসত আদালতে তোলা হলে বিচারক তাকে পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, মধ্যমগ্রাম পুরসভার পাটুলি-শিবতলা এলাকার বাসিন্দা রীনা রাম বিবাহিতা এবং তাঁর একটি সন্তান রয়েছে। তবে পারিবারিক সমস্যার কারণে দীর্ঘদিন ধরে স্বামীর থেকে আলাদা হয়ে বাপের বাড়ির কাছেই একটি ভাড়া বাড়িতে থাকতেন তিনি। প্রায় দু’বছর আগে ওই একই এলাকার বাসিন্দা গৌরবের সঙ্গে পরিচয় ও পরে প্রেমজ সম্পর্ক গড়ে ওঠে তাঁর। সম্প্রতি মাসখানেক ধরে মধ্যমগ্রামের যশোর রোডের ধারের একটি নামী হোটেলের একটি নির্দিষ্ট ঘর মাঝেমধ্যেই ভাড়া নিয়ে লিভ-ইন পার্টনার হিসেবে থাকতে শুরু করেন তাঁরা। এই সম্পর্কের কথা দুই পরিবারের সদস্যরাই কমবেশি জানতেন।
তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, গত তিন দিন আগে ওই হোটেলে একসাথে ঘর ভাড়া নিয়ে উঠেছিলেন রীনা ও গৌরব। কিন্তু রবিবার কোনো অজানা বিষয়কে কেন্দ্র করে হোটেলের সেই ঘরেই দু’জনের মধ্যে তুমুল অশান্তি ও বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। ঝগড়ার এক পর্যায়ে রীনাকে একা হোটেলের ঘরে রেখেই বাড়ি ফিরে যান গৌরব। এদিকে রীনা বাড়ি না ফেরায় ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা বারবার মোবাইলে ফোন করলেও কোনো সাড়া না মেলায় আতঙ্কিত হয়ে মধ্যমগ্রাম থানায় খবর দেওয়া হয়।
সোমবার রাতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে মধ্যমগ্রাম থানার পুলিশ হোটেলে পৌঁছায়। ঘরের দরজা ভেতর থেকে শক্ত করে বন্ধ থাকায় তা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন তদন্তকারীরা। ভেতরে ঢুকেই রীনাকে সিলিং ফ্যান থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়। তড়িঘড়ি তাঁকে মধ্যমগ্রাম গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর পরই মৃতার পরিবার প্রেমিক গৌরবের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ দায়ের করে। সেই লিখিত দাবির ভিত্তিতে সোমবার রাতেই অভিযুক্ত গৌরবকে গ্রেফতার করে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, রীনার মৃত্যুর সময় গৌরব হোটেলে উপস্থিত ছিলেন না। কেবল সামান্য বচসা নাকি এই মর্মান্তিক পরিণতির পেছনে অন্য কোনো গভীর রহস্য লুকিয়ে রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছেন মধ্যমগ্রাম থানার তদন্তকারীরা।