নিউজ ডেস্ক: শাড়ি ও পোশাকের ব্যবসার চাদরে ঢেকে চরম গোপন সামাজিক মাধ্যমে লুকিয়ে চলত আন্তর্জাতিক অস্ত্র পাচারের রমরমা কারবার! বয়ফ্রেন্ডকে সঙ্গী করে এপার বাংলা থেকে ওপার বাংলায় মারণাস্ত্র সরবরাহের সময় শনিবার রাতে উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগর থেকে জালে ধরা পড়ল মূল কারবারি পূজা বিশ্বাস। সিআইডি (CID)-র গোয়েন্দাদের হাতে উদ্ধার হয়েছে ৪টি ৯ এমএম (9mm) ও ২টি ৭ এমএম (7mm) মিলিয়ে মোট ৬টি অত্যাধুনিক পিস্তল এবং ২০০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে এক বিস্ফোরক তথ্য— ধৃত পূজা আদতে বাংলাদেশের নাগরিক! ঘটনার গুরুত্ব বুঝে ডিআইজি (DIG)-র নেতৃত্বে ইতিমধ্যেই ৪ সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল বা ‘সিট’ (SIT) গঠন করা হয়েছে।
সিআইডির কাছে আগাম গোপন খবর ছিল, অশোকনগর সীমান্ত অঞ্চলকে ব্যবহার করে একটি বড়সড় অস্ত্রের চালান ওপার বাংলায় পাচার হতে চলেছে এবং এই চক্রের মূল চালিকাশক্তি এক মহিলা, যে মূলত এনক্রিপ্টেড অ্যাপের মাধ্যমে খরিদ্দারদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে। বিহারের মুঙ্গের থেকে আগ্নেয়াস্ত্র আনিয়ে সুবিধাজনক সময়ে ডেলিভারি দেওয়াই ছিল তার কাজ। শনিবার গভীর রাতে সুনির্দিষ্ট সংকেতের ভিত্তিতে সিআইডি-র বিশেষ টিম নৈহাটি-অশোকনগর রোডে একটি সন্দেহভাজন ‘ম্যাজিক গাড়ি’ থামিয়ে তল্লাশি চালায়। গাড়ি থেকে পূজাকে পাকড়াও করে তাঁর ব্যাগ খুলতেই চোখ কপালে ওঠে গোয়েন্দাদের। ডিজি (ক্রাইম) রমেশ বাবু জানিয়েছেন, বিপুল অস্ত্র ও কার্তুজ উদ্ধারের পর ওই মহিলাকে সরাসরি গ্রেফতার করা হয়। উল্লেখ্য, বছর কয়েক আগেও দত্তপুকুর থানার পুলিশ এই পূজাকে অস্ত্রসহ একবার হাতেনাতে পাকড়াও করেছিল।
ধৃতকে টানা জেরা করে গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, প্রায় কুড়ি বছর আগে বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে ভারতে অনুপ্রবেশ করেছিল এই মহিলা। এর পর ভুয়ো নথি তৈরি করে ভারতীয় নাগরিক সেজে বসবাস শুরু করে। অশোকনগরের এক যুবকের সঙ্গে বিয়ের পর বিচ্ছেদ হলেও পরবর্তীতে অন্য এক যুবকের সঙ্গে তার সম্পর্কের সূচনা হয়। স্থানীয়দের কাছে তারা কাপড়ের ব্যবসায়ী পরিচয়ে বসবাস করলেও বাস্তবে সেই শাড়ির ব্যবসার আড়ালেই চলত মুঙ্গেরের অবৈধ অস্ত্রের সীমান্ত পাচার।
জেরায় পূজা স্বীকার করেছে, সীমান্তের এক পুরনো অস্ত্র ব্যবসায়ীর হাত ধরে সে এই জগতে পা রেখেছিল। প্রথমদিকে স্থানীয় দুষ্কৃতীদের কাছে অস্ত্র বিক্রি করলেও পরবর্তীতে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশের এক বড়সড় অস্ত্র কারবারির সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তোলে সে। মূলত সবজি বোঝাই বর্ডার ট্রাকে গোপন কুঠুরি বানিয়ে এপার বাংলা থেকে বাংলাদেশে অস্ত্র পাঠাত এই গ্যাং। এই আন্তর্জাতিক অস্ত্র চক্রের শেকড় কতদূর ছড়ানো এবং এতে আর কোন কোন বড় মাথা জড়িত রয়েছে, তার সন্ধানে তল্লাশি জোরদার করেছে সিআইডির নবগঠিত ‘সিট’।