নিউজ ডেস্ক: বেলডাঙা হিংসা মামলায় বড়সড় আইনি ধাক্কা খেল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ (NIA)। নির্দিষ্ট সময়সীমা অতিক্রান্ত হওয়ার পরেও চার্জশিট পেশ করতে না পারায় শনিবার কলকাতার বিচারভবনের বিশেষ এনআইএ আদালত আরও সাতজন অভিযুক্তকে জামিন দিয়েছে। শুক্রবারও একই কারণে ১৫ জন অভিযুক্ত শর্তাধীন জামিন পেয়েছিলেন। ফলে এই মামলায় ধৃত ৩১ জনের মধ্যে এখনও পর্যন্ত ২২ জন জামিনে মুক্তি পেলেন।
শনিবার বিচারভবনে এনআইএ-র বিশেষ আদালতের বিচারক সুকুমার রায়ের এজলাসে এই মামলার শুনানি হয়। অভিযুক্তদের পক্ষের আইনজীবী স্বাগত বিশ্বাস ও ফজলে আহমেদ খান আদালতে সওয়াল করেন যে, ধৃতদের গ্রেফতারির পর ৯০ দিন কেটে গেলেও কেন্দ্রীয় সংস্থা এখনও পর্যন্ত কোনও চার্জশিট বা অভিযোগপত্র পেশ করতে পারেনি। ফৌজদারি কার্যবিধির নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে চার্জশিট দাখিল না হলে ধৃতরা স্বাভাবিকভাবেই জামিন পাওয়ার অধিকারী। বিচারক এই যুক্তি মেনে নিয়েই এ দিন সাতজনের জামিন মঞ্জুর করেন।
কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে এ দিন জামিনের জোরালো বিরোধিতা করা হয়েছিল। তাঁদের দাবি ছিল, এই হিংসার ঘটনার তদন্ত অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং প্রভাবশালী অভিযুক্তদের জামিন দিলে তদন্ত বিঘ্নিত হতে পারে। তবে আইনি বাধ্যবাধকতার জেরে সেই আপত্তি টেকেনি। মামলার বাকি অভিযুক্তরা বর্তমানে কলকাতার প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারে রয়েছেন। ভোটের মুখে বেলডাঙা মামলায় কেন্দ্রীয় এজেন্সির এই চার্জশিট দিতে না পারা এবং গণহারে জামিন পাওয়া নিয়ে ইতিমধ্য়েই প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে।