নিউজ ডেস্ক: স্কুটিতে করে নিঃশব্দে চলছিল নেশার ইনজেকশন পাচারের ছক। কিন্তু শেষরক্ষা হলো না। রাতের অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে পাচারের আগেই পতিরাম থানার পুলিশের তৎপরতায় ভেস্তে গেল বড়সড় নেশার কারবার। অভিযান চালিয়ে স্কুটির সিটের নিচ থেকে উদ্ধার হয়েছে অন্তত ২০০০ অ্যাম্পুল ক্ষতিকর নেশার ইনজেকশন। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে স্কুটিসহ ৩ পাচারকারীকে হাতেনাতে পাকড়াও করেছে পুলিশ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পতিরাম এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতরা হলো দীপক বর্মন, রাজু সরকার এবং নাজমুল মণ্ডল। এদের মধ্যে দীপক ও রাজুর বাড়ি তপন থানার রামপুর এলাকায় এবং নাজমুলের বাড়ি কুমারগঞ্জের শ্যামপুরে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, কুমারগঞ্জ থানার খরাইল গ্রাম থেকে বিপুল পরিমাণ এই ইনজেকশন সংগ্রহ করে একটি স্কুটির সিটের নিচে কালো প্লাস্টিকে লুকিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। পতিরামের অন্য এক পাচারকারীর হাতে সেগুলি তুলে দেওয়ার কথা ছিল। সুনির্দিষ্ট খবরের ভিত্তিতে ৫১২ নম্বর জাতীয় সড়কের ১০ মাইল এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুটি স্কুটিকে আটক করে পতিরাম থানার পুলিশ। তল্লাশি চালাতেই বেরিয়ে আসে প্লাস্টিকে মোড়া বিপুল পরিমাণ ইনজেকশনের অ্যাম্পুল। জানা গিয়েছে, সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে পাচারের উদ্দেশ্যে এগুলি নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।
উল্লেখ্য, বিগত বেশ কিছুদিন ধরেই পতিরাম ও ত্রিমোহনী রুটকে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ ফেনসিডিল, কাফ সিরাপ, ব্রাউন সুগার ও নেশার ইনজেকশন পাচারের ‘করিডোর’ হিসেবে ব্যবহার করছিল আন্তর্জাতিক পাচারকারী চক্রগুলি। সেই কারণে ওই এলাকায় পুলিশি নজরদারি বহুগুণ বাড়ানো হয়েছিল। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, ভিন জেলা থেকে গোপনে এই ইনজেকশনগুলি আনা হয়েছিল। এই চক্রে আর কোন কোন বড় মাথা জড়িত রয়েছে, তা জানতে ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পতিরাম থানার পুলিশ।