নিউজ ডেস্ক: বৃষ্টির দেখা নেই, উল্টে চৈত্র-বৈশাখী দুপুরে আগুনের হলকা বইছে দক্ষিণবঙ্গের পশ্চিমাংশের জেলাগুলিতে। আবহাওয়া দপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মঙ্গলবার পশ্চিম বর্ধমানের পানাগড়ে তাপমাত্রা পৌঁছে গিয়েছিল ৪৩.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। পাল্লা দিয়ে ৪৩.২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পুড়ছে বাঁকুড়াও। পুরুলিয়া, আসানসোল এবং সিউড়িতেও পারদ ৪২ ডিগ্রি ছাড়িয়েছে। বুধবারও পশ্চিম বর্ধমান ও পুরুলিয়া জেলায় তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি করেছে হাওয়া অফিস। পশ্চিমাঞ্চলের বাকি জেলাগুলিতেও চরম অস্বস্তিকর এবং গুমোট গরম বজায় থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
আগামীকাল বৃহস্পতিবার রাজ্যে নির্বাচন। সেই বিশেষ দিনেও সাধারণ মানুষকে ঘাম ঝরিয়েই বুথমুখী হতে হবে বলে পূর্বাভাস দিচ্ছে আলিপুর। পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে অস্বস্তিকর গরমের দাপট কমার কোনও লক্ষণ নেই। তবে আশার কথা এই যে, আগামী শনিবার থেকে সোমবারের মধ্যে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে ঝড়-বৃষ্টির দাপট বাড়তে পারে। তার আগে তীব্র গরমের মধ্যেই কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে বজ্রগর্ভ মেঘ থেকে ছিটেফোঁটা বৃষ্টি হতে পারে।
কেবল বাংলাই নয়, ওড়িশা, বিহার, উত্তরপ্রদেশ এবং মধ্যপ্রদেশের বিস্তীর্ণ অংশ এই মুহূর্তে জ্বলছে। সোমবার উত্তরপ্রদেশের ইলাহাবাদে তাপমাত্রা ৪৪ ডিগ্রি ছুঁয়েছে। বিহারের ভাগলপুর ও ওড়িশার তালচের এলাকাতেও পরিস্থিতি ভয়াবহ। কলকাতায় মঙ্গলবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের চেয়ে সামান্য কম। মূলত দখিনা বাতাসের সক্রিয়তার কারণে উপকূলীয় জেলাগুলিতে পারদ খুব একটা না চড়লেও, বাতাসে জলীয় বাষ্প বেশি থাকায় ভ্যাপসা গরমে ওষ্ঠাগত প্রাণ। তবে উত্তরবঙ্গের পাহাড় ও সংলগ্ন এলাকায় ঘূর্ণাবর্তের প্রভাবে ঝড়-বৃষ্টি চলবে। দক্ষিণবঙ্গে শনিবারের কালবৈশাখীই এখন সুরাপ্রেমী ও সাধারণ মানুষের একমাত্র ভরসা।