নিউজ ডেস্ক: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে আবাস যোজনায় কাটমানি এবং স্বজনপোষণের অভিযোগে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল পূর্ব বর্ধমানের ভাতার ব্লকের বলগোনা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা। সোমবার সকাল থেকেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। অযোগ্যদের ঘর পাইয়ে দেওয়া এবং প্রকৃত গরিবদের বঞ্চিত করার অভিযোগে কয়েকশো গ্রামবাসী পঞ্চায়েত অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। শেষমেশ জনরোষের প্রবল চাপে পড়ে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করলেন পঞ্চায়েত প্রধান লায়লা বেগম চৌধুরী।
গ্রামবাসীদের অভিযোগের তির মূলত শাসকদলের স্থানীয় নেতাদের দিকে। তাঁদের দাবি, যাঁদের পাকা বা বহুতল বাড়ি রয়েছে, স্রেফ দলীয় ঘনিষ্ঠতার সুবাদে তাঁদের নাম অনায়াসেই আবাস তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। উল্টোদিকে, ভূমিহীন বা কাঁচা বাড়িতে বসবাসকারী প্রকৃত অভাবীরা রয়ে গিয়েছেন তালিকার বাইরে। শেখ রাজেশ নামে এক ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীর অভিযোগ, তাঁর মায়ের প্রথম কিস্তির টাকা ঢোকার পর জনৈক তৃণমূল নেতা ও পঞ্চায়েত সদস্য শেখ ভোদাই ২০ হাজার টাকা কাটমানি দাবি করেন। টাকা না দিলে রেশন কার্ডের সুবিধা বা সরকারি প্রকল্প থেকে নাম বাদ দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। একই সুরে দুর্নীতির কথা জানিয়েছেন মাজিদা শেখ ও শেখ জহিরুদ্দিনের মতো উপভোক্তারাও।
বিক্ষোভের মুখে পড়ে মেজাজ হারাননি প্রধান লায়লা বেগম চৌধুরী। বরং গ্রামবাসীদের ক্ষোভকে ‘ন্যায্য’ বলে কার্যত স্বীকার করে নিয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, “ব্লক প্রশাসন যাচাই করে তালিকা বানায়, আমরা শুধু তথ্য দিই। কিন্তু দায় সব পঞ্চায়েতের ওপর এসে পড়ছে। এই মানসিক চাপ আমি আর নিতে পারছি না।” এই বলেই বিধায়ক ও দলের কাছে ক্ষমা চেয়ে সসম্মানে ইস্তফা দেওয়ার কথা জানান তিনি।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। বিজেপি নেতা শান্তরূপ দের দাবি, মানুষ এবার দুর্নীতির বিরুদ্ধে জেগে উঠেছে, পালানোর পথ পাবে না তৃণমূল। অন্যদিকে, তৃণমূলের জেলা সাধারণ সম্পাদক বাগবুল ইসলাম জানিয়েছেন, বিষয়টি সম্পূর্ণ প্রশাসনিক এবং এর সঙ্গে দলের কোনো যোগ নেই। প্রশাসন পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখছে।