নিউজ ডেস্ক: লোকসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট বেজে যাওয়ার পর থেকেই রাজ্যে কেন্দ্রীয় এজেন্সির তৎপরতা তুঙ্গে। এবার ভোট পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাক (I-PAC)-কে ঘিরে চলা আর্থিক তছরুপের মামলায় সাঁড়াশি চাপ তৈরি করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। বুধবার সংস্থার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা প্রতীক জৈনের স্ত্রী বার্বি জৈন এবং ভাই পুলকিত জৈনকে দিল্লিতে তলব করেছে কেন্দ্রীয় সংস্থা। টাকা পাচার সংক্রান্ত মামলার তদন্তে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁদের আজই হাজির হতে বলা হয়েছে। আইপ্যাকের এক শীর্ষ কর্তার গ্রেপ্তারের রেশ কাটতে না কাটতেই তাঁর পরিবারের সদস্যদের এই তলব রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
উল্লেখ্য, গত সোমবারই আইপ্যাকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ভিনেশ চ্যান্ডেলকে গ্রেপ্তার করেছিল ইডি। সোমবার মধ্যরাতে দিল্লির পাতিয়ালা হাউস কোর্টে তাঁকে পেশ করা হলে দীর্ঘক্ষণ শুনানি চলে। মঙ্গলবার ভোরে আদালত ভিনেশকে ১০ দিনের ইডি হেপাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, ভিনেশকে জেরা করেই পাচার হওয়া টাকার হদিস এবং সংস্থার অন্যান্য কর্মকর্তাদের ভূমিকা স্পষ্ট হতে পারে।
এদিকে, এই মামলার জল গড়িয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত পর্যন্ত। কয়লা পাচার মামলায় আইপ্যাকের যোগ রয়েছে— এই অভিযোগে সম্প্রতি কলকাতায় তল্লাশিতে নেমেছিল ইডি। কেন্দ্রীয় এজেন্সির অভিযোগ, প্রতীক জৈনের বাড়ি ও অফিসে তল্লাশির সময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজ্য পুলিশ তদন্তে বাধা দিয়েছেন। এই ‘অচলাবস্থা’র প্রতিকার চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছে ইডি। বুধবার বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র এবং বিচারপতি এন ভি আঞ্জারিয়ার বেঞ্চে সেই মামলার শুনানি হওয়ার কথা।
তদন্তকারী সংস্থার দাবি, আইপ্যাকে আসা টাকার হিসাব মেলাতে গিয়ে বড়সড় গরমিল ধরা পড়েছে। ইডির আইনজীবীরা আদালতে জানিয়েছেন, সংস্থার মোট আয়ের ৫০ শতাংশ ব্যাঙ্কিং চ্যানেলে এলেও বাকি ৫০ শতাংশ নগদে নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ, এই বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা আন্তর্জাতিক হাওলা রুট ব্যবহার করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে অন্তত ৫০ কোটি টাকার তছরুপের অভিযোগ সামনে এনেছে কেন্দ্রীয় এজেন্সি। যদিও ধৃত ভিনেশের আইনজীবীর পালটা দাবি, টাকা পাচারের সপক্ষে কোনও সুনির্দিষ্ট প্রমাণ দেখাতে পারেনি ইডি এবং তাঁর মক্কেলকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফাঁসানো হচ্ছে।