নিউজ ডেস্ক: ভোটের নির্ঘণ্ট বেজে যাওয়ার পরেই ভোটারদের মন জয় করতে রাজনৈতিক দলগুলির ‘উপহার’ সংস্কৃতির ওপর কড়া নজরদারি শুরু করল নির্বাচন কমিশন। গ্রামীণ বা সীমান্তবর্তী এলাকায় ভোটারদের প্রভাবিত করতে গভীর রাতে টাকা বা মদ বিলির যে অভিযোগ ওঠে, তা রুখতে এ বার রণকৌশল বদলাচ্ছেন পুলিশ পর্যবেক্ষকরা। স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, নির্দিষ্ট এলাকায় এই ধরণের অসাধু কার্যকলাপ চলার খবর পাওয়ার পরেও যদি স্থানীয় থানার আধিকারিকরা নিষ্ক্রিয় থাকেন, তবে তাঁদের চরম বিভাগীয় শাস্তির মুখে পড়তে হবে।
রাজ্যে নির্বাচনী ডিউটিতে আসা ভিন রাজ্যের আইপিএস অফিসার তথা পুলিশ পর্যবেক্ষকরা ইতিমধ্যেই বিভিন্ন থানা এলাকা পরিদর্শন শুরু করেছেন। সূত্রের খবর, তাঁরা প্রতিটি থানার অফিসারদের হাতে একটি করে ‘সন্দেহভাজন’ তালিকা ধরিয়ে দিচ্ছেন। এই তালিকায় রয়েছে এমন ব্যক্তিদের নাম, যাঁরা অতীতে ভোটের আগে টাকা বা মদ বিলির সঙ্গে জড়িত ছিল। পর্যবেক্ষকরা চাইছেন, শুধু তালিকা হাতে বসে না থেকে পুলিশ এলাকায় গিয়ে নিয়মিত খোঁজখবর নিক এবং গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করুক। বিশেষত সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে নজরদারি আরও আঁটোসাঁটো করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে অন্য রাজ্য থেকে কেউ টাকা বা নেশাদ্রব্য নিয়ে এলাকায় ঢুকতে না পারে।
তদন্তকারীদের নজরে রয়েছে রাজনৈতিক নেতাদের আয়োজিত হঠাত্ ‘ভোজ’ বা খাওয়াদাওয়াও। পর্যবেক্ষকদের আশঙ্কা, এই ধরণের গণভোজের আড়ালেই অনেক সময় টাকা বা মদের টোপ দেওয়া হয়। তাই কোনও এলাকায় হঠাত্ করে বড় ধরণের জমায়েত বা খাওয়াদাওয়া হলে পুলিশকে সেখানে নজর রাখতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে সন্দেহজনক গাড়ি বা ঘনঘন যাতায়াত করা যানবাহনের ওপর বিশেষ নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে অফিসারদের জানতে বলা হয়েছে যে, বাইরে থেকে কেউ এসে তাঁদের কোনও কিছুর প্রলোভন দিচ্ছে কি না। অবাধ ও স্বচ্ছ ভোট সুনিশ্চিত করতে নিচুতলার পুলিশকর্মীদের এখন থেকেই তটস্থ থাকার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।