নিউজ ডেস্ক: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ সুনিশ্চিত করতে এ বার আরও কঠোর অবস্থান নিল নির্বাচন কমিশন। বুথের নিরাপত্তায় যুক্ত করা হচ্ছে এক নয়া কৌশল— ‘লক্ষ্মণরেখা’। জানা গিয়েছে, এ বার প্রতিটি পোলিং বুথের ১০০ মিটার ব্যাসার্ধ জুড়ে সাদা চক দিয়ে একটি বৃত্ত বা সীমান্ত টেনে দেওয়া হবে। এই গণ্ডির ভেতরে ভোটার ছাড়া অন্য কোনও ব্যক্তির প্রবেশে থাকবে কঠোর নিষেধাজ্ঞা। মূলত ভুয়ো ভোটার এবং বহিরাগতদের দাপট রুখতেই কমিশনের এই নজিরবিহীন পদক্ষেপ।
কমিশন সূত্রে খবর, এই নির্দিষ্ট ‘লক্ষ্মণরেখা’র বাইরে মোতায়েন থাকবেন বিএলও (BLO) এবং সরকারি আধিকারিকরা। তাঁরাই ভোটারদের প্রাথমিক নথি যাচাই করবেন। তবে সেখানেই শেষ নয়, বুথের ভেতরেও থাকছে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয়। দু’টি আলাদা টেবিলে পুনরায় ভোটারদের পরিচয়পত্র পরীক্ষা করা হবে। কোনওভাবে যাতে জালিয়াতি বা ছায়া ভোটাররা বুথে ঢুকতে না পারে, তার জন্যই এই দ্বিগুণ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা।
এ দিকে, ভোটার স্লিপ বিলি নিয়েও কড়া নির্দেশিকা জারি করেছে কমিশন। এ বার বিএলও-রা সরাসরি ভোটারদের বাড়ি গিয়ে স্লিপ পৌঁছে দেবেন। যদি কাউকে বাড়িতে পাওয়া না যায়, তবে কেন তাঁকে স্লিপ দেওয়া গেল না, তার পূর্ণাঙ্গ রেকর্ড প্রিসাইডিং অফিসারের কাছে জমা দিতে হবে। এমনকি ভোটের দিন যদি সেই নির্দিষ্ট ব্যক্তি ভোট দিতে আসেন, তবে স্লিপ বিলির সময় তিনি কোথায় ছিলেন, সে ব্যাপারেও জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারেন প্রিসাইডিং অফিসার। যদিও চূড়ান্তভাবে তালিকায় নাম ও ছবির মিল থাকলেই তিনি ভোটদানের অনুমতি পাবেন।
সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতেও এ বার বাড়তি নজরদারি চালানো হচ্ছে। সাধারণত ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে সীমান্ত সিল করা হলেও, এ বার পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে ৭২ ঘণ্টা আগেই সমস্ত আন্তঃরাজ্য ও আন্তর্জাতিক সীমান্ত নিশ্ছিদ্র করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কেবল কেন্দ্রীয় বাহিনী নয়, ড্রোনের মাধ্যমেও আকাশপথে নজরদারি চালানো হবে। পাশাপাশি, যাঁদের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা (NBW) রয়েছে, তাঁদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে জেলা প্রশাসনকে চরমসীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এলাকায় উত্তেজনা ছড়াতে পারে এমন ব্যক্তিদেরও আগেভাগে শনাক্ত করে আটক করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে পুলিশ।