নিউজ ডেস্ক: শনিবার সকালে পাড়ায় হঠাৎই সাজ সাজ রব। পুলিশের গাড়ি আর কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের দেখে এক মুহূর্তের জন্য থমকে গিয়েছিলেন প্রতিবেশীরা। কিন্তু ভুল ভাঙল কিছুক্ষণের মধ্যেই। বুথ নয়, ভোটবাক্সই এ দিন হাজির হয়েছিল অশীতিপর ভোটারদের ড্রয়িংরুমে। নবতিপর মঙ্গলা কর্মকার কিংবা বৃদ্ধা লীলা দে—যাঁরা বার্ধক্যজনিত কারণে শয্যাশায়ী বা হাঁটতে অক্ষম, তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার সুনিশ্চিত করতে এ ভাবেই দোরগোড়ায় পৌঁছে গেল নির্বাচন কমিশন।
শনিবার থেকেই দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হল বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম পর্যায়ের ভোটগ্রহণ। তবে তা সাধারণ বুথে নয়, বরং ৮৫ বছরের ঊর্ধ্বে এবং বিশেষভাবে সক্ষম ভোটারদের জন্য ‘হোম ভোটিং’ বা বাড়িতে বসে ভোটদানের প্রক্রিয়া। সোনারপুর, বারুইপুর, ভাঙড় থেকে শুরু করে রায়দিঘি—জেলার প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রেই এ দিন ভোটকর্মীরা কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে আবেদনকারী ভোটারদের বাড়ি বাড়ি যান। মঙ্গলাদেবীর মতো অনেককেই ধরে তুলে বসাতে হলেও, ভোট দেওয়ার সময় তাঁদের চোখেমুখে ছিল দৃপ্ত প্রত্যয়।
জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় প্রায় ২৫ হাজার ভোটার বাড়িতে বসে ভোট দেওয়ার ইচ্ছাপ্রকাশ করেছিলেন। এ দিন মথুরাপুর ২ নম্বর ব্লকের ২৫৯ জন বাসিন্দা তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। পিছিয়ে নেই ভাঙড়ও, সেখানে প্রথম দিনেই ৭২ জন প্রবীণ নাগরিক ভোট দিয়েছেন। এঁদের মধ্যে অনেকেই শতায়ু। আগামী কয়েক দিন ধরে এই বিশেষ ভোটদান প্রক্রিয়া চলবে বলে জানানো হয়েছে। বুথে যাওয়ার শারীরিক ক্ষমতা না থাকলেও, গণতন্ত্রের মহোৎসবে নিজেদের মতামতের গুরুত্ব দিতে পেরে খুশি এই প্রবীণ ভোটাররা। কমিশনের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন তাঁদের পরিবারের সদস্যরাও।