নিউজ ডেস্ক: আরজি কর কাণ্ডের সেই অভিশপ্ত রাতে ‘অভয়া’কে মৃত বলে ঘোষণা করেছিলেন তিনি। তারপর থেকে বিচার চেয়ে গড়ে ওঠা আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছেন আরজি কর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিক্যাল অফিসার তাপস প্রামাণিক। এ বার নির্বাচনের তপ্ত আবহে রহস্যজনক ভাবে নিখোঁজ হয়ে গেল তাঁরই ১৪ বছর বয়সি নাবালিকা ভাগ্নি। উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটা থানার ঠাকুরনগর এলাকার এই ঘটনায় ইতিমধ্য়েই ৭২ ঘণ্টা পার হয়ে গিয়েছে, কিন্তু পুলিশ এখনও পর্যন্ত নাবালিকার কোনও হদিস দিতে পারেনি। চরম উৎকণ্ঠা ও আশঙ্কার মধ্যে দিন কাটছে পরিবারটির।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গিয়েছে, নিখোঁজ নাবালিকা নবম শ্রেণির ছাত্রী। ছোটবেলায় মাকে হারানো মেয়েটি তার মামা তাপস প্রামাণিকের কাছেই থাকত। গত ১৬ এপ্রিল সকাল ৮টা নাগাদ বাড়ি থেকে টিউশন পড়তে যাওয়ার নাম করে বেরিয়েছিল সে। কিন্তু দুপুর গড়িয়ে গেলেও সে বাড়ি না ফেরায় খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। ওই সময় তাপসবাবু আরজি কর হাসপাতালে ডিউটিতে ছিলেন। খবর পেয়েই তিনি ঠাকুরনগরে পৌঁছন এবং গাইঘাটা থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন। কিন্তু শনিবার রাত পর্যন্ত পুলিশ ওই নাবালিকার কোনও সন্ধান দিতে পারেনি।
এই নিখোঁজ রহস্যের নেপথ্যে কোনও গভীর চক্রান্ত বা প্রতিহিংসার যোগ রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তাপস প্রামাণিক কেবল আরজি কর আন্দোলনের অগ্রণী মুখই নন, তিনি রাজনৈতিক ভাবে বিজেপির সঙ্গেও যুক্ত। সাম্প্রতিক নির্বাচনী প্রচারে তাঁকে বিজেপি প্রার্থী তরুণজ্যোতি তিওয়ারি ও সজল ঘোষের সমর্থনে সরব হতে দেখা গিয়েছে। এমনকি ‘অভয়া’র মায়ের হয়েও তিনি প্রচার করেছেন। তাপসবাবুর কথায়, ‘‘আমি অভয়াকাণ্ডের প্রতিবাদ করেছি এবং বিরোধী প্রার্থীর হয়ে প্রচারে অংশ নিয়েছি। এর ফলেই কি আমার ভাগ্নিকে অপহরণ করা হল? কিছুই বুঝতে পারছি না। পুলিশও কোনও ইতিবাচক খবর দিতে পারছে না।’’ তিনি অবিলম্বে পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তাদের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
গাইঘাটা থানার এক আধিকারিক জানিয়েছেন, অভিযোগ পাওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে। তবে ওই নাবালিকার কাছে কোনও মোবাইল ফোন না থাকায় ট্র্যাকিং করতে সমস্যা হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে তার গতিবিধি বোঝার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। ভোটের ডামাডোলের মাঝে এই নিখোঁজ রহস্য জেলাজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।