নিউজ ডেস্ক: বাংলার ক্ষমতার অলিন্দে বড়সড় রদবদল। দীর্ঘ ১৩ বছর পর রাজ্যের প্রশাসনিক ভরকেন্দ্র ফের নবান্ন থেকে বিবাদী বাগের শতাব্দীপ্রাচীন লালবাড়ি অর্থাৎ মহাকরণে ফিরতে চলেছে। ২০১৩ সালের ৫ অক্টোবর রাইটার্স বিল্ডিংস ছেড়ে নবান্নে সচিবালয় সরিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ঠিক ১৩ বছর পর রাজ্যে পালাবদলের সাথে সাথেই বিজেপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার আবারও কলকাতা থেকেই শাসনভার পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
প্রশাসনিক সূত্রে খবর, মঙ্গলবারই পূর্ত দপ্তরসহ একাধিক সরকারি দপ্তরের আধিকারিকরা মহাকরণ পরিদর্শন করেছেন। দ্রুততার সাথে রাইটার্সকে সাজিয়ে তুলতে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আজ বুধবার মুখ্যসচিব এ বিষয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ডেকেছেন। মূলত নবান্নের ১৩ ও ১৪ তলায় অবস্থিত মুখ্যমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের দপ্তরগুলি অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে মহাকরণে স্থানান্তরিত হবে। মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্র সচিবের চেম্বারও অবিলম্বে প্রস্তুত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে ঢিমেতালে চলা রাইটার্স সংস্কারের কাজে এখন যুদ্ধের তৎপরতা শুরু হয়েছে। টেলিফোন, বিদ্যুৎ ও তথ্য-প্রযুক্তির কাজ বুঝে নিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তবে সম্পূর্ণ সংস্কার হতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। বিজেপি সূত্রের দাবি, যতদিন না রাইটার্স পুরোপুরি প্রস্তুত হচ্ছে, ততদিন বিকল্প হিসেবে বিধানসভার অ্যানেক্স বিল্ডিং থেকে কাজ চালাতে পারেন ভাবী মুখ্যমন্ত্রী।
আগামী শনিবার, ২৫ বৈশাখ রবীন্দ্রজয়ন্তীর দিন ব্রিগেডে শপথ নেবে বাংলার প্রথম বিজেপি সরকার। উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শপথগ্রহণের পর নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা রাজভবন হয়ে সরাসরি পৌঁছাবেন রাইটার্সে। ২০১১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজভবন থেকে হেঁটে মহাকরণে পৌঁছেছিলেন। দেড় দশক পর সেই ডালহৌসি চত্বর আবারও এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে চলেছে।