নিউজ ডেস্ক: ছাব্বিশের নির্বাচনে বাংলায় সরকার পরিবর্তনের পরেই ভোল বদলাতে শুরু করেছে কলকাতার ঐতিহাসিক ডালহৌসি চত্বর। হাওড়ার ‘নবান্ন’ থেকে ফের রাজ্যের প্রশাসনিক সদর দপ্তর বা মুখ্যমন্ত্রীর অফিস কলকাতায় রাইটার্স বিল্ডিংয়ে (মহাকরণ) স্থানান্তরিত হওয়ার খবর রটতেই কার্যত প্রাণ ফিরছে গোটা এলাকায়।
রাইটার্স বিল্ডিংয়ের অন্দরে প্রস্তুতি: বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য নির্বাচনের আগেই জানিয়েছিলেন, তাঁদের সরকার রাইটার্স থেকেই চলবে। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করতে ইতিমধ্যেই লালবাড়িতে সাজ সাজ রব দেখা গিয়েছে:
-
মুখ্যমন্ত্রী, মুখ্যসচিব এবং একাধিক সচিবালয়ের ঘরগুলি ঢেলে সাজানোর কাজ শুরু হয়েছে।
-
মেঝেতে নতুন মার্বেল বসানো এবং পলেস্তরা খসে যাওয়া দেওয়ালগুলিতে সিমেন্টের প্রলেপ দেওয়ার কাজ চলছে।
-
নিরাপত্তা ব্যবস্থাতেও আমূল বদল আনা হয়েছে। আগে পূর্বমুখী দরজায় সামান্য কিছু রক্ষী থাকলেও এখন সার্জেন্ট পদমর্যাদার অফিসার সহ বিরাট পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
ব্যবসায়ী ও হকারদের মধ্যে খুশির হাওয়া: সচিবালয় ফেরার খবরে রাইটার্স চত্বরের ফুটপাত ও অফিসপাড়ার ছোট ব্যবসায়ীদের মধ্যে নতুন করে উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে:
-
পুরানো পেশার প্রত্যাবর্তন: দীর্ঘ সময় পর রাইটার্সের উল্টোদিকে ফুটপাতে আবার জুতো পালিশ করা কর্মীদের দেখা মিলছে। তাঁদের আশা, সরকারি আধিকারিক ও পুলিশদের আনাগোনা বাড়লে আবার কাজ ফিরবে।
-
খাবারের স্টল: গত ১২ বছর ধরে যাঁদের ব্যবসা ঝিমিয়ে পড়েছিল, সেই ভাতের হোটেলের মালিকেরা ফের বড় অর্ডারের আশায় দোকান গোছাচ্ছেন।
-
মেট্রোর সুবিধা: নবনির্মিত ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর ‘মহাকরণ’ স্টেশনের পাশে নতুন করে হকাররা বসতে শুরু করেছেন। মেট্রো পরিষেবা চালু হওয়ায় অফিসযাত্রীদের আনাগোনা বাড়লে ব্যবসা আরও জমে উঠবে বলে তাঁরা আশাবাদী।
দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় পর বাংলার ক্ষমতার ভরকেন্দ্র আবার তার পুরানো ঠিকানায় ফিরে আসায় ডালহৌসি চত্বরের অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক গুরুত্ব পুনরায় বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে।