নিউজ ডেস্ক: বর্ষার সামান্য কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতেই ফের একবার খাস কলকাতা ও লাগোয়া উপনগরীর কঙ্কালসার নিকাশি পরিকাঠামো প্রকাশ্যে চলে এলো। সোমবার দুপুরে মাত্র দু’ঘণ্টার প্রবল বৃষ্টিতেই জলমগ্ন হয়ে পড়ল ভিআইপি রোড, সল্টলেক, কলকাতা বিমানবন্দর প্রাঙ্গণসহ শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা। সার্ভিস রোড থেকে শুরু করে অভিজাত আবাসন এলাকা— চারদিকে জমা জলের কারণে দিনভর চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হলো সাধারণ পথচারী ও নিত্যযাত্রীদের।
সবচেয়ে করুণ ও বিপর্যস্ত ছবি ধরা পড়েছে ভিআইপি রোডের অন্যতম ব্যস্ত পয়েন্ট হলদিরাম চত্বরে। বৃষ্টি থামার পর হলদিরামের দু’দিকের সার্ভিস রোড কার্যত নদীর রূপ নেয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, জমা জলের গভীরতা এতটাই ছিল যে সেখানে অনায়াসে নৌকা চালানো সম্ভব! একই সঙ্গে জলমগ্ন হয়ে পড়ে উত্তর ২৪ পরগনার অন্যতম অভিজাত উপনগরী সল্টলেক। করুণাময়ী মোড় থেকে শুরু করে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের ১ নম্বর গেটের চারপাশের রাস্তা হাঁটু জলে তলিয়ে যায়। করুণাময়ীতে জল উঠে আসে ফুটপাত পর্যন্ত। রাস্তা দিয়ে দ্রুত গতিতে যানবাহন গেলেই জমা জল ঢেউয়ের মতো ছিটকে এসে ভিজিয়ে দেয় পথচারীদের। সল্টলেকের ব্রডওয়ে রোড ও জি ডি ব্লক বাস টার্মিনাস সংলগ্ন এলাকা দীর্ঘক্ষণ জলের তলায় থাকায় ক্ষোভ উগরে দেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের স্পষ্ট দাবি, নিকাশি ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ না হওয়ায় বছর বছর এই একই দুর্ভোগ সহ্য করতে হচ্ছে।
বৃষ্টির ধাক্কা থেকে রেহাই মেলেনি কলকাতা বিমানবন্দরও। টার্মিনাল প্রাঙ্গণ ও বিমানবন্দরের প্রবেশপথে জল থইথই করায় চরম বিপাকে পড়েন দূরদূরান্ত থেকে আসা বিমানযাত্রীরা। জমা জলের কারণে দুপুর ১টা ২০ মিনিট থেকে বিকেল ৩টে ৪০ মিনিট পর্যন্ত বিমান চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটে। অন্তত ১৪টি বিমান নির্দিষ্ট সময়ে উড্ডয়ন ও অবতরণ করতে পারেনি বলে বিমানবন্দর সূত্রে খবর।
অন্যদিকে, দুই ঘণ্টার টানা বৃষ্টিতে উত্তর ও মধ্য কলকাতার সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ, কলেজ স্ট্রিট, আমহার্স্ট স্ট্রিট, ঠনঠনিয়া, মানিকতলা, ট্যাংরা, বেলেঘাটা এবং ই এম বাইপাসের বেশ কিছু অংশে জল জমে যায়। এর ফলে ব্যস্ত সময়ে স্তব্ধ হয়ে পড়ে যান চলাচল। সমান্তরালভাবে উত্তর শহরতলির দমদমের চিড়িয়ামোড়, সিঁথি, দমদম রোড এবং বরানগরের বিভিন্ন রাস্তায় জল জমে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। পুরসভার তরফে অবশ্য জানানো হয়েছে, বিকেলের পর নিকাশি পাম্প চালিয়ে এবং গালিপিটের মুখ পরিষ্কার করে দ্রুত জল নামানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। আগামী দিনে যেসব এলাকায় নিকাশির বড় গলদ রয়েছে, সেগুলি চিহ্নিত করে স্থায়ী সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে পুর কর্তৃপক্ষ।