নিউজ ডেস্ক: বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী সুন্দরবনের বুক চিরে কোথায় কোথায় সবুজ ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল ধ্বংস করে গড়ে উঠেছে বেআইনি মেছো ভেড়ি, হোটেল কিংবা বাণিজ্যিক রিসর্ট— তা চিহ্নিত করতে এবার এক সুবৃহৎ সমীক্ষার নির্দেশ দিল দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসন। পরিবেশ রক্ষায় রাজ্যের বন, সেচ এবং ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের শীর্ষ আধিকারিকদের যৌথ উদ্যোগে এই তল্লাশি ও সমীক্ষার কাজ চালানো হবে। নির্দিষ্ট জমির প্রকৃত সরকারি শ্রেণি বা চরিত্র কী ছিল এবং বর্তমানে তা কারা কী উদ্দেশ্যে অবৈধভাবে ব্যবহার করছেন, তার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ নথিভুক্ত করা হবে এই রিপোর্টে।
সম্প্রতি রাজ্য বনমন্ত্রী মনোজ ওঁরাও সুন্দরবন সফরে এসে একাধিক অঞ্চল সরজমিনে খতিয়ে দেখেন। পরিদর্শনকালে একটি জায়গায় ম্যানগ্রোভের বনাঞ্চল কেটে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে বিরাট মেছো ভেড়ি তৈরি হতে দেখে তিনি চরম বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এর পরেই গোটা জেলাজুড়ে এমন অপরাধমূলক পরিবেশ ধ্বংসের চিত্র আর কোথায় কোথায় রয়েছে, তার সামগ্রিক খতিয়ান পেতে তড়িঘড়ি এই বিস্তৃত সমীক্ষার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, ক্যানিং ও বাসন্তী মহকুমার বিস্তীর্ণ এলাকায় অবাধে ম্যানগ্রোভ কেটে অবৈধ জলাশয় বা ভেড়ি তৈরি করা হয়েছে। বিগত দিনে রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক নজরদারির অভাবেই এই প্রবণতা চরম রূপ ধারণ করেছিল বলে দাবি তাঁদের। বহু ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রতিরোধে ম্যানগ্রোভের গুরুত্ব না বুঝে কেবল বাণিজ্যিক লাভের আশায় এই সবুজ ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে।
বনবিভাগ সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী, ক্যানিং মহকুমা ছাড়াও নামখানা এবং কুলতলি সংলগ্ন এলাকাগুলিতে বিপুল পরিমাণ সরকারি বনভূমি দখলের অভিযোগ উঠে এসেছে। ক্যানিংয়ের ইটখোলা পঞ্চায়েতের কৃপাখালি গ্রামে পরিদর্শন শেষে বনমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, দখল হয়ে যাওয়া জায়গাগুলিকে উদ্ধার করে কীভাবে আগের প্রাকৃতিক সবুজ পরিবেশে ফিরিয়ে আনা যায়, সেই বিষয়ে দ্রুত রূপরেখা তৈরি করা হচ্ছে। তবে যেসব জায়গায় বাণিজ্যিক রিসর্ট বা হোটেল গড়ে উঠেছে, সেগুলি যথাযথ প্রশাসনিক অনুমোদন ও নিয়ম মেনে করা হয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হবে। জেলা প্রশাসনের এক শীর্ষ আধিকারিক নিশ্চিত করেছেন, সমীক্ষার কাজ দ্রুত শেষ করে সার্বিক তদন্ত রিপোর্ট রাজ্যের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রক ও দপ্তরে জমা দেওয়া হবে, যার ভিত্তিতে শুরু হবে কড়া আইনি ও উচ্ছেদ অভিযান।