নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে রাজ্যে ভারতীয় জনতা পার্টির (BJP) নয়া সরকারের পরিবহণ মন্ত্রী অর্জুন সিং পূজালির রাজীবপুর কংক্রিটের জেটিঘাটের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছিলেন। তবে সেই উৎসবের আবহ কাটতে না কাটতেই সামনে এল চরম প্রশাসনিক উদাসীনতার এক ভয়ঙ্কর চিত্র। উদ্বোধনের আজ ঠিক সাত দিন পার হলেও, সেই সুদৃশ্য কংক্রিটের ঘাটে এখনও চালু হয়নি কোনো সরকারি বা বেসরকারি ভেসেল পরিষেবা।
স্বাভাবিকভাবেই, প্রতিদিনের যাতায়াতকারী যাত্রীদের মনে জমছে ক্ষোভ ও প্রশ্ন। রাজীবঘাট থেকে উলুবেড়িয়া যাতায়াতের জন্য সাধারণ মানুষকে এখনও সেই পুরনো দিনের মতোই প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে জরাজীর্ণ ও বিপজ্জনক ভুটভুটিতেই নদী পারাপার করতে হচ্ছে। যাত্রীদের প্রশ্ন, “ভেসেল যদি চালুই না করা যায়, তাহলে ঘটা করে শুধুমাত্র জেটিঘাট উদ্বোধনের নাটক করে লাভ কী হল?” এই অব্যবস্থার জেরে বিজেপির স্থানীয় এবং জেলা নেতৃত্বকেও প্রতিদিন সাধারণ মানুষের তীক্ষ্ণ সমালোচনা ও ক্ষোভের মুখে পড়তে হচ্ছে।
স্থানীয় বিজেপির পূজালি মণ্ডল সভাপতি গৌতম পাত্র ক্ষোভের সুরে জানান, “তৃণমূল আমলে এই জেটিঘাট তৈরি করে বছরের পর বছর ফেলে রাখা হয়েছিল। আমাদের সরকার ক্ষমতায় আসার পর দ্রুত এর উদ্বোধনের উদ্যোগ নিয়েছে, যা অবশ্যই প্রশংসনীয়। কিন্তু উদ্বোধনের সময় স্বয়ং পরিবহণ মন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন যে যাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াতের জন্য দ্রুত ভেসেল দেওয়া হবে। তবে বাস্তবে তা এখনও চালু হয়নি। এর ফলে এলাকার বাসিন্দারা আমাদের দেখলেই প্রতিদিন সমালোচনা করছেন।” এই পরিস্থিতি সামাল দিতে তিনি দলের ডায়মন্ড হারবার সাংগঠনিক জেলার সভাপতি সোমা ঘোষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এবং মন্ত্রীর নজরে আনার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।
এদিকে, বিজেপির জেলা সভাপতি সোমা ঘোষ জানিয়েছেন, “আমরা ইতিপূর্বেই পরিবহণ মন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করে গোটা বিষয়টি বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেছি। পরিবহণ মন্ত্রী আমাদের আশ্বস্ত করেছেন যে রাজীবঘাট সহ রাজ্যের মোট ১০টি গুরুত্বপূর্ণ জেটিঘাটের জন্য ২০টি নয়া ভেসেলের অর্ডার দেওয়া হয়েছে। সেই ভেসেলগুলি হাতে এলেই দ্রুত পরিষেবা চালু করা হবে।” স্থানীয় যাত্রীদের দাবি, যত দ্রুত সম্ভব এই প্রশাসনিক টালবাহানা কাটিয়ে পূজালির রাজীবঘাট থেকে উলুবেড়িয়া পর্যন্ত ভুটভুটির পরিবর্তে নিরাপদ ভেসেল পরিষেবা চালু করা হোক।