নিউজ ডেস্ক: মধ্যমগ্রামের যশোর রোডের ধারের একটি নামী হোটেল থেকে চালক ও ব্যবসায়ী পরিবারের সম্পর্কের টানাপোড়েনে প্রৌঢ়ার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এল। মধ্যমগ্রাম লিভ-ইন কাণ্ডের তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, সম্পর্কের অবনতি এবং বিয়ের সামাজিক স্বীকৃতি নিয়ে বিরোধের ফলেই জীবন শেষ করার সিদ্ধান্ত নেন বছর চল্লিশের রীনা রাম। এই ঘটনায় মৃতার লিভ-ইন পার্টনার গৌরব শেঠকে গ্রেফতার করে জেরা করতেই একের পর এক সম্পর্কের জটিল মোড় উন্মোচিত হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, শুরুতে সবকিছু মসৃণ ছিল। সুযোগ পেলেই শহরের কোলাহল ছেড়ে একান্তে সময় কাটাতে মধ্যমগ্রামের ওই হোটেলে ঘর ভাড়া নিতেন রীনা ও গৌরব। প্রায় দু’বছর ধরে চলা এই সম্পর্কের রং ধীরে ধীরে ফিকে হতে শুরু করে সাম্প্রতিক সময়ে। তদন্তে জানা গিয়েছে, রীনা তাঁর বয়সে প্রায় ১২ বছরের ছোট প্রেমিক গৌরবকে দ্রুত বিয়ের জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। কিন্তু সেই সামাজিক স্বীকৃতি দেওয়ার পথে তৈরি হয় একাধিক বড় বাধা।
রীনা কেবল গৌরবের চেয়ে বয়সে অনেকটাই বড় ছিলেন তা নয়, তিনি ছিলেন বিবাহিতা এবং এক বিবাহিত সন্তানের মা-ও। যদিও স্বামীর সঙ্গে রীনার বনিবনা ছিল না এবং তিনি দীর্ঘদিন আলাদা থাকতেন। প্রতিবেশী গৌরবের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি হওয়ার পর গত মার্চ মাস থেকে মাঝেমধ্যেই হোটেলে এসে লিভ-ইন শুরু করেন তাঁরা। জেরায় ধৃত গৌরব দাবি করেছেন, নিজের থেকে বয়সে বড় এবং বিবাহিত এক নারীকে বিয়ে করলে পরিবার ও সমাজ সহজভাবে মেনে নেবে না— এই ভয়েই তিনি ধীরে ধীরে সম্পর্ক থেকে পিছিয়ে আসতে চাইছিলেন। এই নিয়েই গত কয়েক মাস ধরে তাঁদের মধ্যে চূড়ান্ত অশান্তি চলছিল।
ঘটনার দিনও হোটেল ঘরে বিয়ের দাবি ঘিরে দু’জনের মধ্যে তীব্র বচসা ও বাকবিতণ্ডা হয়। অশান্তির জেরে গৌরব হোটেল ছেড়ে নিজের বাড়িতে চলে যান। ঘরে একাই থেকে যান রীনা। পরদিন পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ পৌঁছায় এবং বন্ধ দরজা ভেঙে রীনার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান— ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা, বিয়ের প্রত্যাখ্যান এবং তীব্র মানসিক টানাপোড়েনের জেরেই রীনা এই চরম পথ বেছে নেন। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ সত্যতা জানতে মধ্যমগ্রাম থানার পুলিশ ধৃতের মোবাইল, রীনার ব্যবহৃত ফোন, চ্যাট হিস্ট্রি এবং হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে।