মায়ের মৃত্যুর পর তাঁর ইচ্ছাপূরণ করতে কর্নিয়া দান করেছিলেন পেশায় শিক্ষক তথা সমাজকর্মী পুত্র। কিন্তু সেই মহৎ উদ্যোগই শেষমেশ কাল হল তাঁর। চক্ষুদান নয়, বরং মৃত মায়ের অঙ্গ ‘বিক্রি’ করা হয়েছে— এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগে উত্তাল হয়ে উঠল নদিয়ার কৃষ্ণনগর কোতোয়ালি থানার সেনপুর শ্যামনগর পাড়া। গণবিক্ষোভের জেরে শেষমেশ পুলিশ ওই শিক্ষক এবং তাঁর পরিবারের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত শিক্ষকের নাম আমির চাঁদ। রবিবার তাঁর মা রাবেয়া বিবির বার্ধক্যজনিত কারণে মৃত্যু হয়। সমাজসেবামূলক কাজে বরাবরই উৎসাহী আমির একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মাধ্যমে মৃত মায়ের কর্নিয়া সংগ্রহের ব্যবস্থা করেন। কিন্তু কাজ চলাকালীনই প্রতিবেশী ও স্থানীয়দের একাংশ অভিযোগ তোলেন, কোনও বৈধ নথিপত্র ছাড়াই গোপনে এই কাজ করা হচ্ছে এবং এর নেপথ্যে বড়সড় আর্থিক লেনদেন রয়েছে। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে, উত্তেজিত জনতা আমিরের বাড়িতে চড়াও হয়।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় কৃষ্ণনগর কোতোয়ালি থানার পুলিশ। পরিস্থিতি সামাল দিতে আমির, তাঁর দুই বোন এবং পুত্রবধূ-সহ পরিবারের পাঁচ জনকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাঁদের বিরুদ্ধে অঙ্গ চুরির অভিযোগে মামলা রুজু করে গ্রেফতার দেখায় পুলিশ। যদিও নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বিধ্বস্ত আমির বলেন, “মায়ের ইচ্ছাতেই কর্নিয়া দান করেছি। সমস্ত বৈধ নথিপত্র আমাদের কাছে রয়েছে। সমাজসেবা করতে গিয়ে কেন এভাবে ফাঁসানো হল, বুঝতে পারছি না।” জেলার পরিবেশকর্মী ও সমাজকর্মীদের একাংশ আমিরের পাশে দাঁড়িয়ে পুলিশের এই ভূমিকার সমালোচনা করেছেন। পুলিশ অবশ্য জানিয়েছে, স্থানীয়দের নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই আইনি পদক্ষেপ করা হয়েছে এবং সমস্ত পদ্ধতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সোমবার ধৃতদের আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁদের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।