নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের পর্যটন ক্ষেত্রকে বিশ্ব দরবারে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিতে বড়সড় মাস্টারপ্ল্যান ঘোষণা করলেন রাজ্য পর্যটন মন্ত্রী শংকর ঘোষ। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে উঠে তিনি জানান, কেন্দ্র সরকারের আর্থিক সহায়তায় রাজ্যের দুটি বিখ্যাত পর্যটনকেন্দ্রকে আন্তর্জাতিক মানের ‘গ্লোবাল ডেস্টিনেশন’ (Global Destination) হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এর মধ্যে একটি হিসেবে দার্জিলিং চূড়ান্ত হয়েছে এবং অন্যটি সুন্দরবন অথবা মন্দারমণির মধ্যে থেকে বেছে নেওয়া হবে। এই প্রকল্পের জন্য কেন্দ্রের তরফ থেকে আর্থিক বরাদ্দের আশ্বাস দিয়েছেন কেন্দ্রীয় পর্যটন মন্ত্রী গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াত।
বিধানসভায় দাঁড়িয়ে পূর্বতন সরকারের কাজের কড়া সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, “এতদিন রাজ্যের পর্যটন দপ্তর কুয়োর ব্যাঙ হয়ে আটকে ছিল, আমরা একে বিশাল সমুদ্রে পৌঁছে দেওয়ার জন্য কাজ করছি।” তিনি অভিযোগ করেন, আগের সরকারের সময়ে দপ্তরের কোটি কোটি টাকার বাজেট পড়ে থাকত এবং বিলাসবহুল সরকারি কটেজগুলি কেবল তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্যই তালাবন্ধ করে রাখা হতো। পরিসংখ্যান দিয়ে তিনি দাবি করেন, বিগত কয়েক বছরে পর্যটন খাতে বরাদ্দ বাজেটের বড় অংশই খরচ না করে ফেলে রাখা হয়েছিল। প্রাক্তন পর্যটন মন্ত্রীকে কটাক্ষ করে তিনি মন্তব্য করেন, “আগের দপ্তরের কাজ ছিল মাঝেমধ্যে গান শোনানো, হয়তো সেই কারণেই তাঁকে ওই পদে রাখা হয়েছিল।”
পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সুবিধার জন্য নতুন অ্যাপ এবং রাজ্যব্যাপী ২৪ ঘণ্টার হেল্পলাইন চালুর কথা জানান পর্যটন মন্ত্রী। এছাড়া রাজ্যের জন্য চারটি বড় প্রকল্পের রূপরেখা তুলে ধরেন তিনি:
-
মিরিক লেক সংস্কার: কেন্দ্রের সহযোগিতায় ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে মিরিক লেকের ব্যাপক সৌন্দর্যায়ন ও সংস্কার করা হবে।
-
লেবুখালি উন্নয়ন: সুন্দরবনের নতুন প্রবেশদ্বার লেবুখালিকে সাজিয়ে তুলতে ৫৫ কোটি টাকা খরচ করা হবে।
-
ধান্যকুড়িয়া হেরিটেজ: ধান্যকুড়িয়া হেরিটেজ সাইট সংরক্ষণের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ১৫ কোটি টাকা।
-
দার্জিলিং পাহাড়: পাহাড়ের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রের পরিকাঠামো উন্নয়নে ১৪ কোটি টাকা ব্যয় হবে।
একই সঙ্গে রাজ্যে ১০৮টি ধর্মীয় সার্কিট গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যার আওতায় চার শতাধিক মন্দির ও ধর্মীয় স্থানের আধুনিকীকরণ করা হবে। পরিবেশ সচেতন পর্যটনের দিকে জোর দিয়ে মন্ত্রী জানান, স্থানীয় বাসিন্দা এবং হোটেল মালিকদের সুবিধার্থে নতুন হোমস্টে পলিসি আনা হচ্ছে। হোটেলগুলিকে ‘পর্যটন শিল্প’ (Tourism Industry)-র মর্যাদা দিয়ে আর্থিক ও নন-ক্যাশ সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাবও রাজ্য মন্ত্রিসভার অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। আগামী ২৬ জুলাই সুন্দরবনে পরিবেশবান্ধব পর্যটন বাস্তবায়নে স্থানীয়দের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলেও জানান মন্ত্রী।