নিউজ ডেস্ক: স্কুল চত্বরে পড়ুয়াদের মোবাইল ফোনের যথেচ্ছ ব্যবহার রুখতে এবার অত্যন্ত কড়া পদক্ষেপ করল উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ। একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণীর পড়ুয়াদের ক্ষেত্রে স্কুলে মোবাইল ফোন ব্যবহারে একগুচ্ছ বিধিনিষেধ আরোপ করে শুক্রবার একটি জরুরি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। সংসদের নির্দেশ, পড়ুয়ারা যাতে কোনওভাবেই স্কুলের ভেতরে মোবাইল ব্যবহার না করে, তা নিশ্চিত করতে স্কুল কর্তৃপক্ষকে কঠোর নজরদারি চালাতে হবে। এই নির্দেশিকাকে কেন্দ্র করে যেমন শিক্ষকদের একাংশ স্বস্তি প্রকাশ করেছেন, তেমনই রাজ্য সরকারের ‘তরুণের স্বপ্ন’ প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র জল্পনা।
সংসদের তরফে জানানো হয়েছে, শুধু ক্লাসরুমের ভেতরেই নয়, স্কুলের প্রার্থনা সভা (অ্যাসেম্বলি), পরীক্ষার সময় এবং অন্যান্য যে কোনও অ্যাকাডেমিক ক্রিয়াকলাপের সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। তবে দূরদূরান্ত থেকে আসা পড়ুয়া বা বাড়িতে কোনও জরুরি পরিস্থিতি কিংবা পড়ুয়ার নিজস্ব শারীরিক অসুস্থতাজনিত কারণে মোবাইল সঙ্গে রাখার ছাড় দেওয়া হয়েছে। তবে সে ক্ষেত্রে স্কুলে ঢোকার পর ফোনটি সম্পূর্ণ বন্ধ (Switch Off) অথবা সাইলেন্ট মোডে রাখতে হবে। পড়ুয়ারা যাতে মোবাইল নিরাপদে জমা রাখতে পারে, তার জন্য স্কুলগুলিকে বিশেষ লকার বা পরিকাঠামোর ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে। কোনও বিশেষ কারণে ফোন ব্যবহারের প্রয়োজন হলে, সংশ্লিষ্ট পড়ুয়াকে আগে প্রধান শিক্ষকের লিখিত অনুমতি নিতে হবে।
এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে শিক্ষকরা জানাচ্ছেন, উঁচু ক্লাসের পড়ুয়াদের মধ্যে মোবাইল ব্যবহারের প্রবণতা বর্তমানে সংক্রামক ব্যাধির মতো ছড়িয়ে পড়েছে। ক্লাসের মাঝেই ফোন ব্যবহার করায় তারা পাঠদানে অমনোযোগী হয়ে পড়ছে। এমনকি, বহু ক্ষেত্রে মোবাইলকে কেন্দ্র করে স্কুল চত্বরে অন্যায্য এবং অসামাজিক কাজেও জড়িয়ে পড়তে দেখা যাচ্ছে কিশোর-কিশোরীদের। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শিক্ষাদফতরের নির্দেশ, শিক্ষকদের দিয়ে পড়ুয়াদের নিয়মিত কাউন্সেলিং করাতে হবে। পাশাপাশি, অভিভাবকদেরও সচেতন হতে অনুরোধ করা হয়েছে, যাতে তাঁরা সন্তানদের স্কুলে ফোন নিয়ে যেতে নিরুৎসাহিত করেন। মোবাইল ব্যবহারের ফলে সাইবার নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা (Privacy) কীভাবে ভঙ্গ হতে পারে, সেই বিষয়েও পড়ুয়াদের পাঠ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সংসদ।
‘তরুণের স্বপ্ন’ প্রকল্প বন্ধের জল্পনা:
সংসদের এই নির্দেশিকাকে সাধুবাদ জানালেও, এর বাস্তবায়ন নিয়ে একাধিক বড় প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষকদের একাংশ। তাঁদের বক্তব্য, রাজ্য সরকারের জনপ্রিয় ‘তরুণের স্বপ্ন’ প্রকল্পের মাধ্যমে একাদশ শ্রেণীর পড়ুয়াদের স্মার্টফোন বা ট্যাব কেনার জন্য সরাসরি ১০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। ফলে শিক্ষকরা ফোন আনতে বারণ করলে, পড়ুয়ারা অবলীলায় সরকারের দেওয়া ট্যাবের টাকার যুক্তি খাড়া করে।
সাধারণত স্কুল স্তরে এই ধরনের শৃঙ্খলাসংক্রান্ত নির্দেশিকা মধ্যশিক্ষা পর্ষদ জারি করে থাকে। কিন্তু এবার সরাসরি উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের তরফ থেকে এই কড়া ফতোয়া আসায় শিক্ষানুরাগী ও রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে। তবে কি উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে ‘তরুণের স্বপ্ন’ প্রকল্প এবার বন্ধ হতে চলেছে? প্রসঙ্গত, গত বছর পুজো শুরুর আগেই পড়ুয়াদের অ্যাকাউন্টে এই টাকা পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এবার পুজোর ঠিক মুখে সংসদের এই আকস্মিক নির্দেশিকা সেই জল্পনাকেই আরও উসকে দিল।