নিউজ ডেস্ক: সেন্ট্রাল কলকাতার ব্যস্ততম পাইকারি ওষুধের বাজার এজরা স্ট্রিটে এবার পেশাগত কাজে গিয়ে চরম শ্লীলতাহানির শিকার হলেন এক মহিলা মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ (Medical Representative)। ঘটনার খবর চাউর হতেই তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয় এলাকা জুড়ে। নির্যাতিতা মহিলার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত ওষুধের দোকানের কর্মচারী ভাস্কর সৎপতিকে দ্রুত গ্রেফতার করেছে হেয়ার স্ট্রিট থানার পুলিশ। ধৃতকে কলকাতার ব্যাঙ্কশাল আদালতে তোলা হলে বিচারক তাকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত জেল হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।
পুলিশ ও প্রাথমিক তদন্ত সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার দুপুরে আর পাঁচটা সাধারণ দিনের মতোই নিজের পেশাগত কাজের সূত্রে এজরা স্ট্রিটের একটি নামী ওষুধের দোকানে গিয়েছিলেন ওই মহিলা মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ। সেই সময় দোকানে অন্য কোনও খদ্দের বা কর্মী উপস্থিত ছিলেন না। অভিযোগ, ওষুধের নতুন স্টক ও অর্ডার নেওয়ার বাহানায় ভাস্কর ওই মহিলাকে দোকানের ভেতরের দিকে ডেকে নিয়ে যায়। মহিলা ভেতরে ঢোকামাত্রই অভিযুক্ত কর্মচারী সুযোগ বুঝে তাঁকে আচমকা জাপটে ধরে শ্লীলতাহানি করে।
হঠাৎ এই হামলায় হতচকিত হয়ে গেলেও আত্মরক্ষার্থে ওই তরুণী তৎক্ষণাৎ চিৎকার জুড়েন। তাঁর চিৎকার শুনেই এজরা স্ট্রিটের আশপাশের দোকানের ব্যবসায়ী ও পথচারীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। লোকজনকে ধেয়ে আসতে দেখে ভয় পেয়ে ওই মহিলাকে ছেড়ে দেয় অভিযুক্ত কর্মী। খবর পেয়ে প্রথমে বড়বাজার থানার পুলিশ এসে অভিযুক্ত ভাস্করকে আটক করে এবং পরে ঘটনাস্থলটি হেয়ার স্ট্রিট থানার এক্তিয়ারভুক্ত হওয়ায় ধৃতকে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
বিকেলেই নির্যাতিতা মহিলার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে হেয়ার স্ট্রিট থানায় শ্লীলতাহানির নির্দিষ্ট আইনি ধারায় মামলা রুজু করা হয় এবং ভাস্কর সৎপতিকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার দেখানো হয়। বুধবার দুপুরে ধৃতকে ব্যাঙ্কশাল আদালতে হাজির করা হলে বিচারক জামিনের আবেদন নাকচ করে ৪ আগস্ট পর্যন্ত জেল হেপাজতের নির্দেশ দেন। ব্যস্ততম বাজারে কাজের জায়গায় মহিলাদের নিরাপত্তার এই চরম অভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী মহল।