নিউজ ডেস্ক: ইনস্টাগ্রাম বা ফেসবুকের মতো সোশ্যাল মিডিয়ায় গড়ে ওঠা বন্ধুত্বকে কাজে লাগিয়ে খাস কলকাতার জোড়াবাগান থানা এলাকার এক নাবালিকাকে অপহরণ ও চলন্ত গাড়িতে যৌন নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ উঠল! ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম আলোড়ন ছড়িয়েছে এলাকায়। তবে কলকাতা পুলিশের একনিষ্ঠ তৎপরতায় ফিল্মি কায়দায় ধাওয়া করে রক্ষা পেল ওই কিশোরী। হাওড়ার সলপ এলাকায় জাতীয় সড়কের ধারের একটি পেট্রোল পাম্প থেকে গাড়িটিকে ঘিরে ফেলে অপহৃত নাবালিকাকে উদ্ধার করার পাশাপাশি অভিযুক্ত যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতের নাম আরমান আলম, বাড়ি কলকাতার বেনিযাপুকুর এলাকায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বেনিযাপুকুরের বাসিন্দা আরমান আলম নিজেকে বড় ব্যবসায়ী পরিচয় দিয়ে ওই নাবালিকার সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় পরিচিত হয়। ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে বন্ধুত্ব এবং মাঝেমধ্যেই তারা বাইরে দেখা করত। সেই সুবাদেই মঙ্গলবার বিকেলে টিউশন পড়তে যাওয়ার নাম করে বাড়ি থেকে বের হয় জোড়াবাগানের ওই কিশোরী। আরমানের ডাকে সে বেনিযাপুকুর পৌঁছলে, তাকে ফুসলিয়ে ও জোরপূর্বক একটি চারচাকার গাড়িতে তুলে নেওয়া হয়। অভিযোগ, গাড়িটিকে জাতীয় সড়ক ধরে দিঘার দিকে নিয়ে যাওয়ার সময় চলন্ত গাড়ির ভেতরেই নাবালিকার ওপর চরম যৌন নির্যাতন চালায় আরমান।
এদিকে সন্ধ্যা ৭টা গড়িয়ে গেলেও মেয়ে বাড়ি না ফেরায় চিন্তিত ও আতঙ্কিত হয়ে পড়েন তার পরিবারের সদস্যরা। আর দেরি না করে ওই দিনই সন্ধ্যায় জোড়াবাগান থানায় লিখিত অপহরণের অভিযোগ দায়ের করেন নাবালিকার বাবা। অভিযোগ পাওয়ার পর মুহূর্তের মধ্যে অ্যাকশনে নামে কলকাতা পুলিশ। নাবালিকার কাছে একটি মোবাইল ফোন রয়েছে জানতে পেরে তৎক্ষণাৎ সাইবার সেলের সাহায্যে তার ফোনের টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করা শুরু হয়।
টাওয়ার লোকেশনে দেখা যায় গাড়িটি দ্রুত জাতীয় সড়ক ধরে কোলাঘাট ও উলুবেড়িয়ার অভিমুখে ছুটছে। আরমান ও তার গাড়ির সম্ভাব্য গতিপথের ওপর নজর রেখে জোড়াবাগান থানার একটি বিশেষ টিম দ্রুত ধাওয়া করে। ভাগ্যক্রমে হাওড়ার সলপ এলাকায় একটি পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি ভরার জন্য আরমানের গাড়িটি থামতেই আগে থেকে পিছু নেওয়া পুলিশ অফিসাররা চারপাশ থেকে গাড়িটিকে ঘিরে ফেলেন।
গাড়ির ভেতর থেকে আতঙ্কিত ও বিধ্বস্ত নাবালিকাকে সুরক্ষিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় এবং অভিযুক্ত আরমান আলমকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়। উদ্ধারের পর আইনি ও শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন করে নাবালিকাকে চাইল্ড কেয়ার হোমে পাঠানো হয়েছে। নাবালিকাকে ফুসলিয়ে অপহরণ ও যৌন নির্যাতনের পেছনে আরও কোনো চক্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে ধৃত আরমানকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে জোড়াবাগান থানার পুলিশ।