নিউজ ডেস্ক: খাস কলকাতায় মাদক কারবারের বিরুদ্ধে অভিযানে নেমে বড়সড় সাফল্য পেল কলকাতা পুলিশের নারকোটিক সেল। বৃহস্পতিবার রাতে কসবার টেগোর পার্ক এলাকার একটি নামী হোটেলে আচমকা হানা দিয়ে প্রায় ৭ কেজি আন্তর্জাতিক মানের বহুমূল্য ‘হাইড্রোপনিক’ গাঁজা-সহ এক প্রথম সারির মাদক বিক্রেতাকে গ্রেপ্তার করেছেন লালবাজারের গোয়েন্দারা। ধৃতের নাম হাসান আলি। উদ্ধার হওয়া এই বিপুল পরিমাণ মাদকের আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য প্রায় ২ কোটি টাকা বলে পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে। কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) কুণাল আগরওয়াল এই বড়সড় মাদক উদ্ধারের খবর নিশ্চিত করেছেন।
লালবাজার সূত্রে জানা গিয়েছে, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে নারকোটিক শাখার গোয়েন্দারা বৃহস্পতিবার রাতে প্রথমে টেগোর পার্কের একটি গেস্ট হাউসে হানা দেন। সেখান থেকে হাসান আলিকে প্রথমে আটক করা হয়। পরে তার ঘরে তল্লাশি চালিয়ে একটি খামের ভেতর থেকে প্রায় সাড়ে পাঁচশো গ্রাম হাইড্রো গাঁজা এবং মাদক বিক্রির নগদ সাড়ে ৭৬ হাজার টাকা উদ্ধার করেন আধিকারিকরা। এর পর ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে গোয়েন্দারা হাসানের চৌবাগা রোডের বাড়িতে গভীর রাতে যৌথ অভিযান চালান। সেখান থেকেও আরও সাড়ে ৬০০ গ্রাম হাইড্রো গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
কী এই ‘হাইড্রোপনিক’ গাঁজা?
গোয়েন্দাদের দাবি, বর্তমানের ‘জেন জি’ অর্থাৎ এই প্রজন্মের যুবক-যুবতীদের কাছে ‘হাইড্রোপনিক’ গাঁজা বা ‘হাইড্রো গাঁজা’ অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং এটি মারাত্মক ক্ষতিকারক। মূলত চোরাপথে থাইল্যান্ডের ব্যাংকক থেকে সীমান্ত পেরিয়ে কলকাতায় নিয়ে আসা হচ্ছে এই মাদক। সাধারণ গাঁজা মাটিতে চাষ করা হলেও, এই বিশেষ ধরনের গাঁজা সম্পূর্ণ ঘরোয়া পরিবেশে (ইনডোর) জলের মধ্যে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষ করা হয়। এর জন্য একটি নির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রিত তাপমাত্রা এবং কৃত্রিম এলইডি (LED) আলোর প্রয়োজন হয়। মাটিতে চাষ করা সাধারণ গাঁজার তুলনায় এই হাইড্রোপনিক গাঁজায় নেশার উপাদান ‘টেট্রাহাইড্রো ক্যানাবিনল’ (THC) অনেক বেশি মাত্রায় থাকে। তীব্র নেশার কারণেই এর দাম আকাশছোঁয়া হওয়া সত্ত্বেও তরুণ প্রজন্মের একাংশের কাছে এর চাহিদা তুঙ্গে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধৃত হাসান গোয়েন্দাদের কাছে স্বীকার করেছে, ব্যাংকক থেকে চোরাপথে মোট ১২ কেজি হাইড্রো গাঁজা কলকাতায় আনা হয়েছিল। যার মধ্যে বিক্রির উদ্দেশ্যে হাসানের কাছে ৮ কেজি মজুত রাখা হয়েছিল। বাকি ৪ কেজি হাইড্রো গাঁজা নিয়ে ইতিমধ্যেই চম্পট দিয়েছে চক্রের অন্য এক সদস্য। সেই পলাতক যুবকের খোঁজে শহর ও শহরতলির বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি শুরু করেছে লালবাজার। ধৃত হাসান আলির বিরুদ্ধে মাদক আইন (NDPS Act)-এর একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করে এই আন্তর্জাতিক মাদক চক্রের শিকড় কতদূর বিস্তৃত, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।