নিউজ ডেস্ক: কলকাতা শহরের জঞ্জাল সাফাই ও কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগকে আরও গতিশীল ও স্বচ্ছ করতে এক বড়সড় আধুনিকীকরণের সিদ্ধান্ত নিল কলকাতা পুরসভা। কোন গাড়ি কখন পুরসভার গ্যারেজ থেকে বেরোচ্ছে, কখন যাচ্ছে কম্প্যাক্টর স্টেশনে আর ময়লা তুলে কখন ফিরছে ধাপার ডাম্পিং গ্রাউন্ডে— এবার থেকে এই সমস্ত গতিবিধির ওপর ২৪ ঘণ্টা ‘ট্র্যাক’ বা কড়া নজরদারি চালানো হবে। এই লক্ষ্যে পুরসভার সমস্ত জঞ্জাল তোলার গাড়ি, মুভেবল কম্প্যাক্টর, ডাম্পার-সহ যাবতীয় মেশিনারি ও গাড়িতে বসতে চলেছে আধুনিক জিপিএস (GPS) ট্র্যাকিং সিস্টেম ও সিসি ক্যামেরা।
পাশাপাশি, শহরের প্রতিটি আধুনিক ভ্যাট অর্থাৎ কম্প্যাক্টর স্টেশনগুলিতেও বসানো হবে সিসি ক্যামেরা। কলকাতা পুরসভার সেন্ট্রাল কন্ট্রোল রুম থেকে সরাসরি লাইভ স্ট্রিমিংয়ের মাধ্যমে চলবে এই কড়া নজরদারি।
সম্প্রতি পুরসভার সচিব কিশোরকুমার বিশ্বাসের উপস্থিতিতে একাধিক বিভাগীয় উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক সম্পন্ন হয়। সেই বৈঠকেই পুরসভার কন্ট্রোল রুমকে আরও আধুনিক এবং সুসংহত (Integrated) করার রূপরেখা তৈরি হয়েছে। ঠিক হয়েছে, শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত প্রতিটি গাড়ি ও ভ্যাটকে সরাসরি সেন্ট্রাল কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে কলকাতায় ১৪৫টি আধুনিক ভ্যাট বা কম্প্যাক্টর স্টেশন রয়েছে। এর পাশাপাশি ১৪৫টি ছোট-বড় মুভেবল কম্প্যাক্টর গাড়ি এবং প্রচুর পুরনো ডাম্পার সচল রয়েছে। এই সমস্ত গাড়িতেই বাধ্যতামূলকভাবে জিপিএস ট্র্যাকিং সিস্টেম লাগানো হবে।
পুরসভার আধিকারিকদের একাংশ জানিয়েছেন, আগে বেশ কিছু গাড়িতে জিপিএস লাগানো হলেও, রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে তার অনেকগুলিই অকেজো হয়ে পড়েছিল। এবার গোটা সিস্টেমের খোলনলচে বদলে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে সাফাই কর্মীরা বা ডাম্পার চালকরা কাজে কোনও ফাঁকি দিচ্ছেন কি না, তা সহজেই ধরা পড়বে। অনেক সময় দেখা যায়, সকালে নির্দিষ্ট সময়ে সাফাই হওয়ার পর দুপুরের দিকে কম্প্যাক্টর স্টেশন বা সংলগ্ন ভ্যাটে আবার আবর্জনা জমে যায়। নতুন সিসি ক্যামেরা সিস্টেম চালু হলে পুরসভার কন্ট্রোল রুমে বসেই তা আধিকারিকদের নজরে আসবে এবং সঙ্গে সঙ্গে সেখানে পুনরায় সাফাইয়ের গাড়ি পাঠিয়ে এলাকা পরিষ্কার করা সম্ভব হবে।
পুরসভার জঞ্জাল সাফাই বিভাগ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, কয়েক মাস আগেই বেশ কিছু নতুন দামি মুভেবল কম্প্যাক্টর গাড়ি কেনা হয়েছে। এগুলির রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তার স্বার্থেও সিসি ক্যামেরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। কারণ, অনেক সময় পুরসভার গ্যারেজে বা রাস্তার ধারে পার্কিংয়ে থাকা নতুন গাড়ি থেকে মূল্যবান যন্ত্রাংশ চুরির অভিযোগ ওঠে। এই চুরির চক্র রুখতে পুরসভার গ্যারেজ এবং যে সমস্ত রাস্তায় এই সাফাই গাড়িগুলি নিয়মিত পার্ক করা থাকে, সেখানেও সিসি ক্যামেরার সংখ্যা এক ধাক্কায় অনেকটাই বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এই সুসংহত ব্যবস্থার ফলে কলকাতার নাগরিক পরিষেবা আরও উন্নত হবে বলে আশাবাদী পুর কর্তৃপক্ষ।