নিউজ ডেস্ক: ফলতার বাসিন্দা, কিন্তু কখনও কলকাতা শহর দেখেনি। সেই আবেগকেই হাতিয়ার করেছিল পাচারকারীরা। কলকাতা ঘোরানোর লোভ দেখিয়ে নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে এন্টালিতে এনে টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠল। প্রায় এক মাস আটকে রেখে নির্যাতনের পর অবশেষে ফলতা ও এন্টালি থানার যৌথ অভিযানে ওই কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনায় সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে খবর, জামাইষষ্ঠীর দিন থেকেই নিখোঁজ ছিল ফলতার ওই কিশোরী। বাড়ি ফিরে মেয়েকে দেখতে না পেয়ে খোঁজ শুরু করেন বাবা। প্রতিবেশী এক গৃহবধূর সঙ্গে শেষবার দেখা গিয়েছিল বলে জানতে পারেন তিনি। ওই গৃহবধূ প্রথমে দাবি করেন, কলকাতায় ঘুরতে নিয়ে গিয়ে কিশোরী হারিয়ে গিয়েছে। বক্তব্যে অসঙ্গতি থাকায় ফলতা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন পরিবার।
তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, এন্টালির এক মহিলার সঙ্গে যোগাযোগ ছিল ওই গৃহবধূর। এরপরই এন্টালি থানাকে বিষয়টি জানায় ফলতা থানা। প্রায় ৭০টি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করে রুমা মান্না নামে এক মহিলার খোঁজ মেলে। জেরায় রুমা জানায়, ফলতা থেকে কিশোরীকে এনে এন্টালিতে কুণাল সেন নামে এক ব্যক্তির হাতে তুলে দেওয়া হয়। আড়াই লক্ষ টাকায় রফা হয়েছিল বলে অভিযোগ। সেখান থেকে ভিন রাজ্যে পাচারের ছক ছিল।
সেই তথ্যের ভিত্তিতেই এন্টালির একটি ফ্ল্যাটে যৌথ অভিযান চালায় পুলিশ। সপ্তাহখানেক আগেই সেখান থেকে উদ্ধার করা হয় ওই কিশোরীকে। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে নির্যাতিতা জানিয়েছে, তাকে দীর্ঘদিন ধরে আটকে রেখে অত্যাচার করা হয়েছে।
লালবাজার সূত্রে খবর, এই ঘটনায় রুমা মান্না, খোকন মান্না, কুণাল সেন, সুরজিৎ প্রামাণিক, স্বপ্না মান্না, জ্যোতি মান্না ও বালিকা মান্না — মোট সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জিরো এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু হয়েছিল। ধৃতদের হেফাজতে নিয়ে পাচারচক্রের বাকি যোগসূত্র খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।