নিউজ ডেস্ক: ২০১৪ সালের ১৪ আগস্ট হাওড়ার জয়পুর থানার কাশমলি গ্রাম পঞ্চায়েতের খড়িবেড়িয়া এলাকায় ১১ বছরের এক নাবালিকাকে অপহরণ ও নৃশংসভাবে খুনের ঘটনায় তোলপাড় হয়েছিল রাজ্য। ঘটনার দীর্ঘ বারো বছর কেটে গেলেও মূল অভিযুক্ত সুশান্ত দলুইয়ের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি অর্থাৎ ফাঁসির দাবিতে ফের রাজপথে নামলেন ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা। সোমবার বকেয়া সুবিচারের দাবিতে হাতে প্ল্যাকার্ড ও পোস্টার নিয়ে এক বিশাল প্রতিবাদ মিছিলে শামিল হন স্থানীয় বাসিন্দা ও মৃতার পরিবারের শোকার্ত সদস্যরা।
হাওড়ার আমতায় আয়োজিত এই প্রতিবাদ মিছিলে রাজনৈতিক দল হিসেবে যোগ দিয়ে সুবিচারের সুর চড়ায় বিজেপিও। আমতায় বিজেপির ৩ নম্বর মণ্ডলের সভাপতি রাজকুমার মাইতি ঘটনার দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “ওই নৃশংস ঘটনার পরপরই পুলিশ মূল অভিযুক্ত সুশান্ত দলুইসহ দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছিল সত্য, কিন্তু তারপর থেকে এই স্পর্শকাতর মামলার কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। আমরা চাই দ্রুত বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ফাঁসি দেওয়া হোক এবং ওই ঘটনার সঙ্গে আর কোনো প্রভাবশালী বা সহযোগী জড়িত ছিল কি না, তা খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক।” অন্যদিকে এই বিষয়ে আশ্বাস দিয়ে আমতার বিধায়ক অমিত সামন্ত জানান, নাবালিকার পরিবার যদি চায়, তবে এই ঝুলে থাকা মামলার অগ্রগতি নিয়ে তাঁরা নতুন করে পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলবেন।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ১৪ আগস্ট রাতে খড়িবেড়িয়া এলাকায় এক পুজোর অনুষ্ঠানে অংশ নিতে গিয়ে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যায় ষষ্ঠ শ্রেণির ওই নাবালিকা ছাত্রী। বহু খোঁজাখুঁজির পর স্থানীয় একটি কৃষিজমি থেকে তার কাদা-মাটি চাপা দেওয়া নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়েছিল।
তদন্তে নেমে জয়পুর থানার পুলিশ সুশান্ত দলুইকে গ্রেফতার করে। জেরায় জানা যায়, অনুষ্ঠানের মাঝে সুশান্ত ওই ছাত্রীর কাছে পানীয় জল চেয়েছিল। জল আনতে কিছুটা দূরে গেলে সুশান্ত সুযোগ বুঝে তার মুখ চেপে ধরে কাছের নির্জন জমিতে তুলে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে পাশবিকভাবে শ্বাসরোধ করে খুন করার পর তথ্যপ্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে মৃতদেহের উপর মাটি চাপা দিয়ে নিঃশব্দে নিজের বাড়িতে ফিরে গিয়েছিল ঘাতক সুশান্ত। এত বছর পার হয়ে গেলেও বিচার না পাওয়ায় ক্ষোভের আগুন জ্বলছে খড়িবেড়িয়ায়।