নিউজ ডেস্ক: খোলামুখ খনির ঠিক পাশেই রমরমিয়ে চলছিল বেআইনি ভাবে মাটি কাটার কারবার। আর সেই অবৈধ খননই প্রাণ কাড়ল এক শ্রমিকের। শনিবার দুপুরে পশ্চিম বর্ধমানের অন্ডাল থানার মুকুন্দপুর এলাকায় মাটির বিশাল চাঙড় ধসে চাপা পড়ে মৃত্যু হলো মঙ্গল ভুঁইয়া (৫০) নামে এক দিনমজুরের। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালীদের মদতেই এই বিপজ্জনক কারবার চলছে।
মাটি কাটার সময় নামল ধস: স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মুকুন্দপুর এলাকায় আর্থ মুভার মেশিন দিয়ে নিয়মিত মাটি কেটে ট্র্যাক্টরে বোঝাই করে পাচার করা হয়। শনিবার দুপুরেও সেই কাজই চলছিল। সেই সময় হঠাৎ ইসিএল-এর খোলামুখ খনি সংলগ্ন একটি উঁচু মাটির স্তূপ থেকে বিশাল চাঙড় ধসে পড়ে। ঘটনাস্থলেই তার তলায় চাপা পড়ে যান ওই দিনমজুর। দুর্ঘটনার পরেই ভয়ে এলাকা ছেড়ে চম্পট দেন আর্থ মুভারের চালক ও মাটি পাচার চক্রের সদস্যরা।
উত্তেজনা ও উদ্ধারকার্য: খবর পেয়ে অন্ডাল থানার পুলিশ ও স্থানীয় খাঁদরা অঞ্চল তৃণমূল সভাপতি মিতা সিনহা বাউড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছান। ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা মাটি কাটার মেশিনটি আটকে রেখে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। পরে পুলিশি হস্তক্ষেপে পলাতক চালককে ফিরিয়ে আনা হয় এবং সেই মেশিন ব্যবহার করেই মাটি সরিয়ে মঙ্গলের দেহ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তের জন্য দেহটি দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
প্রভাবশালী যোগের অভিযোগ: এই ঘটনায় এলাকার নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক নজরদারি নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠেছে। তৃণমূল অঞ্চল সভাপতি মিতা সিনহা বাউড়ি আক্ষেপের সুরে বলেন, “মৃত মঙ্গল বাউড়ি ভুঁইয়া পাড়ারই বাসিন্দা। আমরা বারবার এই বেআইনি মাটি কাটার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছি, কিন্তু তা বন্ধ হয়নি। লোকটির ছোট ছোট বাচ্চা আছে, আজ তাঁর পুরো পরিবারটা পথে বসে গেল।” অন্ডাল থানার ওসি গোপাল পাত্র জানিয়েছেন, কী ভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটল এবং কারা এই মাটি কাটার নেপথ্যে রয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।