নিউজ ডেস্ক: হলিউড ছবি ‘ক্যাচ মি ইফ ইউ ক্যান’-এর ফ্র্যাঙ্ক অ্যাবগানেলকেও হার মানাবে তাঁর জীবন। কখনও দর্জি, কখনও ইউটিউবার, আবার কখনও নিজেকে ‘ইসলাম ত্যাগী’ বা ‘এক্স-মুসলিম’ পরিচয় দিয়ে জনমানসে পরিচিতি তৈরি করেছিলেন তিনি। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না। ১৯৯৫ সালের এক কিশোর অপহরণ ও খুনের মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামী সেলিম খান ওরফে সেলিম ওয়াস্তিককে ৩১ বছর পর গ্রেফতার করল পুলিশ। শুক্রবার উত্তরপ্রদেশের গাজ়িয়াবাদের লোনি এলাকা থেকে পাকড়াও করা হয়েছে তাকে।
সিমেন্ট ব্যবসায়ীর ছেলেকে খুন: ঘটনার সূত্রপাত ১৯৯৫ সালের ২০ জানুয়ারি। দিল্লির এক নামী সিমেন্ট ব্যবসায়ীর ১৩ বছরের ছেলে সন্দীপ বনসল স্কুলে যাওয়ার পথে অপহৃত হয়। মুক্তিপণ হিসেবে চাওয়া হয়েছিল ৩০ হাজার টাকা। গোকুলপুরী থানার পুলিশ তদন্তে নেমে দরিয়াগঞ্জের মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষক সেলিম খানকে গ্রেফতার করে। সেলিমের দেখানো মুস্তাফাবাদের একটি নালা থেকেই উদ্ধার হয়েছিল কিশোরের নিথর দেহ। ১৯৯৭ সালে আদালত সেলিম ও তার সহযোগী অনিলকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়।
জামিন নিয়ে উধাও ও ‘মৃত্যু’র নাটক: ২০০০ সালে অন্তর্বর্তীকালীন জামিনে জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর বেমালুম গা ঢাকা দেন সেলিম। কিছুদিন পরেই রটে যায়, সেলিমের মৃত্যু হয়েছে। পুলিশের খাতায় ‘মৃত’ সেজে সেলিম তখন হরিয়ানার কারনালে দর্জির কাজ শুরু করেন। ২০১০ সালে পাকাপাকিভাবে গাজ়িয়াবাদে চলে এসে মহিলাদের পোশাকের দোকান খোলেন। এখানেই নিজের নতুন পরিচয় গড়ে তোলেন ‘সেলিম ওয়াস্তিক’ নামে। ইউটিউবে ইসলাম ও সন্ত্রাসবাদ বিরোধী ভিডিও পোস্ট করে রাতারাতি জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি।
হামলাই কাল হলো সেলিমের: গত মাসে সেলিমের বাড়িতে ঢুকে দুই দুষ্কৃতী তাঁকে কুপিয়ে খুনের চেষ্টা করে। অভিযুক্তদের দাবি ছিল, সেলিম তাদের নবীকে অপমান করেছেন। এই হামলার তদন্তে নেমেই পুলিশের সন্দেহ হয়। আদালতের রেকর্ডে সেলিমের নাম এখনও ‘পলাতক আসামী’ হিসেবে থাকায় তদন্ত শুরু করেন গোয়েন্দারা। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে সেলিমের আঙুলের ছাপ (Fingerprint) এবং পুরনো শারীরিক বৈশিষ্ট্যের রেকর্ড মিলিয়ে দেখা হয়। তাতেই ধরা পড়ে যায়, এই জনপ্রিয় ইউটিউবার আদতে তিন দশক আগের সেই নৃশংস খুনি সেলিম খান।
অবসান এক দীর্ঘ টানাপোড়েনের: দীর্ঘ ৩১ বছর পর এই কুখ্যাত অপরাধীর গ্রেফতারিতে ১৯৯৫ সালের সেই চাঞ্চল্যকর মামলার একটি বড় অধ্যায়ের অবসান ঘটল। পুলিশ জানিয়েছে, সাজা এড়াতে সেলিম যেভাবে একের পর এক ছদ্মবেশ নিয়েছেন এবং নিজের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে দিয়ে প্রশাসনকে বিভ্রান্ত করেছেন, তা কার্যত নজিরবিহীন। শুক্রবার তাঁকে গ্রেফতার করে ফের জেল হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।