নিউজ ডেস্ক: সারাদিন বুথে বুথে হাড়ভাঙা খাটুনি। তারপর ইভিএম (EVM) সিল করে ডিসিআরসি-তে (DCRC) জমা দেওয়ার তাড়াহুড়ো। কিন্তু মালবাজারের ভোটকর্মীরা স্বপ্নেও ভাবেননি, তাঁদের ফেরার পথে খোদ প্রকৃতিই ‘পথ অবরোধ’ করে বসবে। শুক্রবার রাতে লাটাগুড়ি জঙ্গলের মাঝখানে ১৭ নম্বর জাতীয় সড়কে ভোটকর্মীদের বাস আটকে দাঁড়াল এক বিশাল দাঁতাল হাতি। প্রায় আধ ঘণ্টা ধরে চলল এই ‘অবরোধ’। ইভিএম-এর নিরাপত্তা আর নিজেদের জীবন নিয়ে আতঙ্কে কাঁটা হয়ে রইলেন ভোটকর্মীরা।
মাঝপথে গজরাজের হানা: মালবাজারের মৌলানি এলাকা থেকে লাটাগুড়ি হয়ে মালবাজার পরিমল মিত্র স্মৃতি মহাবিদ্যালয়ের ডিসিআরসি-তে ফিরছিলেন ভোটকর্মীরা। ধূপগুড়ির শিক্ষক অশোকতরু বোস ছিলেন ২০/২৪০ নম্বর বুথের দায়িত্বে। তিনি জানান, রাত তখন বেশ খানিকটা। জঙ্গলের মাঝখান দিয়ে বাস যাওয়ার সময় হঠাৎই হেডলাইটের আলোয় দেখা যায়, এক বিশাল দাঁতাল রাস্তার মাঝখানে ঠায় দাঁড়িয়ে। হাতিটিকে দেখামাত্রই বাসের চালক ব্রেক কষেন। মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে বাসে থাকা ভোটকর্মী ও পুলিশ কর্মীদের মধ্যে।
আতঙ্কে আধ ঘণ্টা, ডিসিআরসি-তে দেরি: শুধুমাত্র অশোকতরুবাবুর বাসই নয়, একই লাইনে আটকে পড়ে ২০/২৪৭ নম্বর বুথের ফার্স্ট পোলিং অফিসার প্রসেনজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়িও। গজরাজের এই অবরোধে রাস্তার দু’পাশে প্রায় ৬০টি গাড়ি আটকে পড়ে। অশোকতরু বোস বলেন, “ভোট শেষে ইভিএম নিয়ে ডিসিআরসিতে ফিরছিলাম। লাটাগুড়ি জঙ্গলের মধ্যে হঠাৎ দেখি একটি বড় দাঁতাল হাতি রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে। খুবই আতঙ্কের মধ্যে পড়ে যাই। একদিকে ইভিএম নিরাপদে পৌঁছানোর দায়িত্ব, অন্যদিকে নিজের জীবন নিয়ে চিন্তা।” এই উটকো ঝামেলায় ডিসিআরসি-তে পৌঁছাতে ভোটকর্মীদের প্রায় দু’ঘণ্টার বেশি দেরি হয়।
বন দপ্তরের তৎপরতায় মুক্তি: ভোটকর্মীরা জঙ্গলের রাস্তায় হাতির জন্য আটকে পড়েছেন, এই খবর পেয়ে তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছান বন দপ্তরের কর্মীরা। তাঁরা দীর্ঘক্ষণের চেষ্টায় গজরাজকে বুঝিয়ে-সুজিয়ে জঙ্গলে ফিরিয়ে দিলে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেন সবাই। আতঙ্ক কাটলে বন কর্মীদের পাহারায় ভোটকর্মীরা নিরাপদে ডিসিআরসি-তে পৌঁছান এবং ইভিএম জমা দেন। ভোটের হরেক গল্পের ভিড়ে লাটাগুড়ির জঙ্গলে গজরাজের এই ‘ইভিএম অবরোধ’ নিশ্চিতভাবেই এক অনন্য সংযোজন হয়ে রইল।